গাজীপুরের টঙ্গীতে ঝুট ব্যবসায়ীর কাছে দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে কারখানার মালামাল নামাতে বাধা, সশস্ত্র মোটরসাইকেল মহড়া, অস্ত্র ও ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের সদস্য সচিব নাজমুল হোসেন মন্ডলসহ ১৯ জনকে এজাহারনামীয় এবং আরও ৭০/৮০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে এই মামলাটি করা হয়। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যে ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মামলার বাদী নূরজ্জামান জামাল জানান, তিনি পাগাড় পাঠানপাড়া এলাকার ‘ফাইজা বাটন এন্ড জিপার লিমিটেড’ কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে দীর্ঘদিন যাবত বাতিলকৃত কার্টুন, পলি, ড্রাম, পুরাতন লোহা-লক্কড় ও অন্যান্য মালামালের ব্যবসা করে আসছেন। কিন্তু কিছুদিন যাবত যুবদল নেতা নাজমুল হোসেন মন্ডলের নেতৃত্বে একটি চক্র তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অপারগতা জানালে তারা ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

এরই একপর্যায়ে গত ২৮ জুন বাদীর লোকজন কারখানা থেকে বাতিলকৃত মালামাল নামাতে গেলে ৭০/৮০ জনের একটি সশস্ত্র বাহিনী মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে ফাইজা বাটন এন্ড জিপার কারখানার চারপাশ ঘেরাও করে এক ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে। তখন যুবদল নেতা নাজমুল হোসেন মন্ডলসহ আরও কয়েকজন তাদের দাবিকৃত ২০ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দেওয়ায় তারা উত্তেজিত হয়ে গাড়িতে মালামাল লোড করতে বাধা দেয় এবং লোকজনকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করে।

পরবর্তীতে ঘটনাটি পুলিশ প্রশাসনের নজরে এলে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গত মঙ্গলবার ও বুধবার দিবাগত রাতে টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। অভিযানে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মনোয়ার হোসেন (২৮), কাজী তৌহিদুল সজীব (৩৫), রনি খাঁ (৩৯), মোঃ রিয়াজন ওরফে রাজন (৩০), জাহাঙ্গীর শেখ ওরফে জমির (২৭), জহির (৩৩), বায়জিদ (২৯), রাজিব হাসান (২৯), হোসাইন (৩৪), মোঃ রাসেল ওরফে খাবরী (২৮) এবং মোঃ সাগর ওরফে নয়ন (২০)।

এ ব্যাপারে টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, "এই চাঁদাবাজির ঘটনায় থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে। ইতিমধ্যে ঘটনার সাথে জড়িত এজাহারনামীয় ১১ আসামিকে গ্রেফতার করে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"