সাগরে লঘুচাপের সৃষ্টি এবং ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসে চট্টগ্রাম বিভাগের নদী-লাগোয়া নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যার সতর্কতা জারি করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। একই সঙ্গে সমুদ্রবন্দরগুলোতে জারি করা হয়েছে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যায় প্রকাশিত সাপ্তাহিক পূর্বাভাসে জানানো হয়, আগামী ৯ জুলাই পর্যন্ত দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় চট্টগ্রাম বিভাগ, ভারতের ত্রিপুরা এবং মিয়ানমার-সংলগ্ন উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় উজানে সর্বোচ্চ ৩০০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে।
ভারী বৃষ্টির প্রভাবে সাঙ্গু, মাতামুহুরী, হালদা, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া ও গোমতী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে আগামী ৬ থেকে ৯ জুলাইয়ের মধ্যে বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ফেনী, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির কিছু নিচু এলাকায় স্বল্পমেয়াদী বন্যার শঙ্কা রয়েছে।
পাশাপাশি, আগামী ৪ থেকে ৭ জুলাইয়ের মধ্যে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়ার কিছু এলাকা প্লাবিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এই সতর্কতায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ জানিয়েছেন, এই লঘুচাপটি বড়জোর নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে, তবে এর ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার কোনো শঙ্কা নেই।
আগামী কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকবে, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়, এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় দমকা হাওয়াসহ মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায় ৩৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে নোয়াখালীর মাইজদীকোর্টে (৫২ মিলিমিটার)।