রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক কারবারির কাছ থেকে চাঁদা নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ঘটনাটি স্বতঃপ্রণোদিত (সুয়োমোটো) হয়ে আমলে নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
গত ১ জুলাই রাজবাড়ীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও গোয়ালন্দ আমলি আদালতের বিচারক মো. মহসিন হাসান এই আদেশ প্রদান করেন। আদালতের নির্দেশে বলা হয়েছে:
রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার নিজে অথবা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কোনো কর্মকর্তাকে দিয়ে ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করতে হবে।
ভিডিওটির সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত এবং অর্থ গ্রহণকারী ব্যক্তি পুলিশ সদস্য কি না তা নিশ্চিত করতে হবে।
কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশসহ আগামী ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘দৌলতদিয়া পোড়া ভিটার শীর্ষ মাদক কারবারি রিনার নিকট থেকে চাঁদা নিচ্ছেন গোয়ালন্দ থানার পুলিশ’ শিরোনামে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, একজন নারী এক যুবকের হাতে টাকা তুলে দিচ্ছেন এবং ওই যুবক টাকা নিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করছেন। শিরোনামে দাবি করা হয়েছে, টাকা গ্রহণকারী ব্যক্তি গোয়ালন্দ ঘাট থানায় কর্মরত এক পুলিশ সদস্য।
ভাইরাল ভিডিওর বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ভিডিওটি প্রায় ছয় মাস আগের। সে সময় সহকারী পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে এ বিষয়ে একটি তদন্ত হয়েছিল। এদিকে, কনস্টেবল মামুন শিকদারকে গোয়ালন্দ থেকে গাজীপুর জেলায় বদলি করা হয়েছে। ওসির দাবি, এটি নিয়মিত বদলির অংশ এবং ওই কনস্টেবল নিজেই বদলি হতে চেয়েছিলেন।
আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন, অভিযোগটি সত্য হলে তা আইনের শাসন ও পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই নিরপেক্ষ ও কার্যকর অনুসন্ধান প্রয়োজন।