দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট নিরসনের লক্ষ্যে নিজেদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য রাজধানীর মিরপুর-১৪ এলাকায় ১৪ তলা বিশিষ্ট একটি আধুনিক আবাসিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের কারিগরি সহায়তার জন্য ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) সাথে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ইউজিসি ও ডুয়েটের মধ্যে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়। চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ছয় মাসের মধ্যে ডুয়েট কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটির ধারণাপত্র, বিস্তারিত প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি), স্থাপত্য নকশা এবং কাঠামোগত নকশা প্রণয়ন করবে। এরপর ডিপিপি অনুমোদন সাপেক্ষে দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ করে নির্মাণকাজ শুরু হবে।

অনুষ্ঠানে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, “কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা কমিশনের অন্যতম অগ্রাধিকার। আগামী দুই বছরের মধ্যে ভবনটি বসবাসের উপযোগী করার লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দক্ষতা ও সমন্বয়ের সাথে কাজ করতে হবে।”

প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্যে জানা গেছে: ফ্ল্যাট সংখ্যা: ভবনটিতে মোট ৫২টি ফ্ল্যাট থাকবে। আয়তন: তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য ৮০০ বর্গফুট এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য ৬০০ বর্গফুট আয়তনের ফ্ল্যাট রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। আধুনিক সুবিধা: ভবনে বেসমেন্টসহ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও জ্বালানি-সাশ্রয়ী নকশা অনুসরণ করা হবে। প্রত্যাশা: বর্তমানে ওই এলাকায় ৪০টি ফ্ল্যাট রয়েছে। নতুন এই ভবনটি নির্মিত হলে ইউজিসির তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আবাসন সংকট অনেকাংশে দূর হবে।

ডুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, “ইউজিসি আমাদের ওপর যে আস্থা রেখেছে, তা যথাযথভাবে পালনে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে কাজ করব। ডুয়েটের দক্ষ প্রকৌশলী ও স্থপতিরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই যাবতীয় প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ করতে বদ্ধপরিকর।”

উল্লেখ্য, প্রকল্পটি ইতিমধ্যেই পরিকল্পনা কমিশনের ‘সবুজ পাতায়’ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ইউজিসি অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন ও কর্মচারী ইউনিয়ন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে জানিয়েছে, এটি বাস্তবায়িত হলে কর্মচারীদের আবাসন-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও সংকট নিরসন হবে।