ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে এ বছর চালানো রাশিয়ার সবচেয়ে বড় ও ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৯১ জন। হামলায় রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকায় অন্তত ১৩০টি ভবন আংশিক বা সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরের দিকে চালানো এই হামলায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, বিধ্বস্ত ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপে এখনো অনেকে আটকা পড়ে আছেন এবং বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের শীর্ষ কমান্ডিং কর্মকর্তা তাইমুর তিকাচেঙ্কো টেলিগ্রামে জানান, দিনিপ্রো নদীর তীরে শহরতলীর একটি আবাসিক এলাকার বিধ্বস্ত অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৮ জন এখনো নিখোঁজ। ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলমান থাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইহনাত জানান, রুশ বাহিনী কিয়েভ ও সংলগ্ন এলাকায় ৭৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৪৯৬টি সামরিক ড্রোন (ইউএভি) নিক্ষেপ করেছে। বিশেষ উচ্চতায় ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিক্ষেপ করার কারণে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে।
হামলায় রেড ক্রস ইউক্রেনের একটি ত্রাণ গুদাম ধ্বংস হয়েছে, যেখানে ৩ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি ত্রাণসামগ্রী ছিল। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎশকো জানিয়েছেন, হামলায় কিয়েভে প্রায় ৩০ লাখ ডলারের সমপরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই ভয়াবহ হামলার ঘটনায় রাজধানীতে শুক্রবার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ইউক্রেন দূত কাতারিনা মাথেরনোভা এই ঘটনাকে বর্ণনা করেছেন ‘কিয়েভের ওপর রাশিয়ার নামিয়ে আনা নরক’ হিসেবে। কিয়েভের স্থানীয় বাসিন্দারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের ধ্বংস হয়ে যাওয়া বসতবাড়ির হৃদয়বিদারক ছবি ও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন।
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত সপ্তাহে রাশিয়ার নিঝনি নভগোরোদে তেল শোধনাগার এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ইউক্রেনের হামলার ‘প্রতিশোধ’ হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, কিয়েভের সামরিক স্থাপনা, বিমানবন্দর ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করেই এই উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।