অশ্রুসিক্ত বিদায়ে শেষ হলো ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপ অধ্যায়। ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে পর্তুগাল। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ফুটবলের আলোয় থাকা ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত অপূর্ণই রয়ে গেল।
রোনালদোকে ফুটবলের ‘আইকন’ আখ্যা দিয়ে পর্তুগালের সদ্য পদত্যাগী কোচ রবার্তো মার্টিনেজ বলেন, “অধিনায়ক হিসেবে অসাধারণ নেতৃত্বের উদাহরণ রেখে তিনি বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করেছেন। রোনালদোর মতো মানুষ খুব বেশি নেই।”
রোনালদোর বিশ্বকাপ পরিসংখ্যান ও রেকর্ডসমূহ, মোট ম্যাচ ও গোল: ২৭ ম্যাচে ১১টি গোল। অনন্য রেকর্ড: বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম ও একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে টানা ছয়টি আসরে (২০০৬–২০২৬) গোল করার কৃতিত্ব। রেকর্ড গোল: বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে গোল করা সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ (৪১ বছর ১৪৭ দিন) খেলোয়াড় তিনি। স্মরণীয় মুহূর্ত: ২০১৮ বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে তার সেই আইকনিক হ্যাটট্রিক ও ৮৮তম মিনিটের ফ্রি-কিক আজও ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে অম্লান।
ক্লাব ফুটবল ও ব্যক্তিগত অর্জনে দীর্ঘ সময় ধরে মেসি ও রোনালদোর দ্বৈরথ পুরো ফুটবল বিশ্বকে শাসন করলেও, বিশ্বকাপের মঞ্চে তাদের সরাসরি লড়াই দেখার আক্ষেপ থেকেই গেল। নকআউট ধাপের সমীকরণের কারণে এবারের বিশ্বকাপে তাদের মুখোমুখি হওয়ার একটি ক্ষীণ সম্ভাবনা তৈরি হলেও, শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি।
২০১৪ সালে ফাইনাল খেলা এবং ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে মেসি তার ক্যারিয়ারের পূর্ণতা পেলেও, রোনালদোর প্রতিটি বিশ্বকাপ যাত্রাই শেষ হয়েছে হতাশার মোড়কে। বিশ্বকাপে ১১ গোল করা রোনালদোর বিপরীতে মেসি চলতি বিশ্বকাপেই টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার (২০টি) আসন দখল করেছেন।
বিশ্বকাপ ট্রফি এবং বিশ্বমঞ্চে মেসির বিপক্ষে একটি স্মরণীয় লড়াই—ফুটবল মাঠে সবকিছু জয় করা রোনালদোর এই দুটি স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল। তবুও, মাঠের লড়াইয়ে তার দীর্ঘস্থায়িত্ব ও পেশাদারিত্ব তাকে তরুণ প্রজন্মের কাছে আজীবন আদর্শ হয়ে রাখবে।