সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ পরবর্তী সমাবেশে হাতবোমা (ককটেল) বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) রাতে এনসিপির ঢাকা উত্তরের সদস্য সচিব সালামত উল্লাহ রনি বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন।

এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইয়াসির আরাফাত জানান, এটি একটি পরিকল্পিত হামলা। হামলার ঠিক কিছুক্ষণ আগেই সমাবেশস্থলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল। এরপরই হঠাৎ বেশ কয়েকটি হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়, যা সমাবেশে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। সমাবেশ শেষে বিদ্যুৎ ফিরে এলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

বিস্ফোরণের ঘটনায় ৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে জুলাই শহীদ শ্রাবণ গাজীর বাবা মান্নান গাজী, সাংবাদিক মো. মজনু (ডিবিসি নিউজ) ও মো. সাঈদুল ইসলাম (এনপিবি নিউজ) এবং শাহীন খন্দকার, জসীম উদ্দিন ও মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন রয়েছেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সোমবার রাতে সাভারের তারাপুর ঈদগাহ মাঠে সমাবেশ চলাকালে এই বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনার সময় মঞ্চে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় উপনেতা নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম উপস্থিত ছিলেন। সে সময় ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ বক্তব্য দিচ্ছিলেন। বিস্ফোরণের ঘটনায় ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের নিয়ে নাহিদ ইসলাম সাভার মডেল থানার সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান।

সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীদের আসামি করে মামলা হয়েছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। এছাড়া বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।