টানা প্রায় ২০ ঘণ্টার ভারী বর্ষণে নওগাঁর জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্যমতে, বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলায় ২৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে নওগাঁয় একদিনে সর্বোচ্চ। এই তীব্র বৃষ্টিপাতে শহরের রাস্তাঘাট, অলিগলি, বাসাবাড়ি এমনকি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও পানি ঢুকে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
ভারী বর্ষণের কারণে নওগাঁ শহরের সিও অফিস, সরকারি কলেজ এলাকা, গোস্তহাটির মোড়, সুপারিপট্টি, চুড়িপট্টি, বাটার মোড়, ডাবপট্টি, পুরাতন হাসপাতাল সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে যান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের হাঁটুপানি মাড়িয়ে যাতায়াত করতে দেখা গেছে।
নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে আত্রাই নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ১ দশমিক ৮৭ মিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বাড়ার এই ধারা অব্যাহত থাকলে জেলার নিম্নাঞ্চলে সাময়িক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার জন্য অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পানি নিষ্কাশনের পথ সংকুচিত হওয়াকে দায়ী করছেন। নওগাঁ পৌরসভার তথ্যমতে, প্রতিদিন পৌর এলাকায় গড়ে ৬০-৮০ টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়, যার বড় একটি অংশ ড্রেন ও খালে ফেলার কারণে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “পৌর এলাকায় ড্রেনের ঘাটতি রয়েছে। পাশাপাশি ড্রেনে পলিথিন, গৃহস্থালি বর্জ্য ও নির্মাণসামগ্রী ফেলায় পানি নিষ্কাশন কঠিন হয়ে পড়েছে। জনবল সংকট আমাদের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।”
শহরের সিও অফিস এলাকার বাসিন্দা আকবর হোসেন জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়, যা এখন নিত্যদিনের ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে। ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করায় পানি নামতে দীর্ঘ সময় নিচ্ছে। ব্যবসায়ী শাহীন আহম্মেদ অভিযোগ করেন, ড্রেনে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় ছোট-বড় সব ব্যবসায়ীদেরই ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
বর্তমানে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শহরবাসী।