ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার চার মাস পর তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে দাফন করা হয়েছে। এই ঘটনার পরপরই কঠোর প্রতিশোধের বার্তা দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। আইআরজিসির শীর্ষ কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদি ঘোষণা করেছেন, এই হত্যার জন্য দায়ী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে চরম মূল্য দিতে হবে।
বিবৃতিতে জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদি বলেন, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার এই জঘন্য কর্মকাণ্ড কখনোই ইতিহাসের স্মৃতিপট থেকে মুছে যাবে না। তিনি অবিলম্বে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে বলেন, ‘শিশুহত্যাকারী মার্কিন সামরিক বাহিনী’ এবং এর পেছনের কুশীলবদের এই অপরাধের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।
গত চার মাস আগে মার্কিন ও ইসরাইলি বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের চার সদস্য নিহত হন। দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার তার জন্মভূমি মাশহাদে তাকে শেষ শ্রদ্ধা ও দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। দাফনের পরপরই আইআরজিসি প্রধানের এই হুশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিল।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইরানের মাশহাদ নগরীতে খামেনির দাফন সম্পন্ন হয়। এরপরই ‘সেপাহ নিউজ এজেন্সি’র মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই কঠোর বার্তাটি আসে।
ওয়াহিদি আরও বলেন, “ইসলামি বিপ্লব ও প্রতিরোধ ফ্রন্টের শত্রুদের জেনে রাখা উচিত যে, এই স্বর্গীয় নেতাকে কাপুরুষোচিতভাবে হত্যা করে তারা কখনোই প্রতিরোধের পতাকাকে মাটিতে নামিয়ে আনতে পারবে না।” তার মতে, শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়া একটি বৈধ এবং অবিস্মরণীয় দাবি, যা ইরান যেকোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে কোনো বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে, যা অঞ্চলে নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করেছে।