ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে টানা নৈপুণ্য দেখিয়ে নিজেকে ‘গোলমেশিন’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন আর্লিং হালান্ড। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে এসে সেই ধারার ছন্দপতন ঘটল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ গোলের হার এবং সেই ম্যাচে গোল না পাওয়ায় আন্তর্জাতিক ফুটবলে টানা ১৪ ম্যাচ পর গোলহীন রইলেন নরওয়ের এই তারকা।

২০২৪ সালের ১৩ অক্টোবর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে গোল না পাওয়ার পর টানা ৬৩৬ দিন জাতীয় দলের জার্সিতে গোল পেয়েছেন হালান্ড। এই সময়ের মধ্যে ১৪ ম্যাচে ২৭টি গোল করেছেন ২৫ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার। এবারের বিশ্বকাপে নিজের প্রথম চার ম্যাচে ৭ গোল করা হালান্ড গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে ছিলেন। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই অবিশ্বাস্য দৌড় থামল।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে হালান্ড ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। দক্ষিণ ফ্লোরিডার প্রচণ্ড গরম (প্রায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) এবং আর্দ্র আবহাওয়ার ধকল ছিল তার ওপর স্পষ্ট। ম্যানচেস্টার সিটির সতীর্থদের নিয়ে গড়া ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ হালান্ডকে বলের নাগাল থেকে দূরে রাখতে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল। পুরো ম্যাচে তিনি মাত্র দুটি শট নিতে পেরেছেন, যার একটি ছিল লক্ষ্যে। পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং চোটের কারণে অতিরিক্ত সময়ের ১৫ মিনিট বাকি থাকতেই তাকে মাঠ থেকে তুলে নেন নরওয়ের কোচ স্টালে সোলবাক্কেন।

ম্যাচ শেষে নিজের দুর্বলতা স্বীকার করে হালান্ড বলেন, “অতিরিক্ত গরম ও আর্দ্রতার কারণে খেলা যত গড়িয়েছে, শক্তি তত ফুরিয়ে এসেছে।” কোচ সোলবাক্কেন জানান, খেলোয়াড়ের ক্লান্তি এবং পায়ে আঘাতের কারণেই তাকে তুলে নেওয়া হয়েছে।

বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও হালান্ড দলের অর্জনে গর্বিত। তিনি বলেন, “এই বিশ্বকাপ আমার জীবন বদলে দিয়েছে। আমরা নরওয়েকে বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে নতুন করে তুলে ধরতে পেরেছি।” ব্রাজিলকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছানোই ছিল বিশ্বকাপে নরওয়ের ইতিহাসের সেরা সাফল্য।