জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে সমুন্নত রাখাই ‘আমার বাংলাদেশ পার্টি’ (এবি পার্টি)-র প্রধান রাজনৈতিক লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেছেন, পরাজিত শক্তির আস্ফালন থাকা স্বাভাবিক, তবে তাদের এসব অপচেষ্টা বরং জুলাইপন্থি শক্তির ঐক্যকে আরও সুসংহত করবে।
সোমবার (১৩ জুলাই) রাজধানীর বিজয়নগরে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে উত্তরা ও রামপুরা এলাকায় জীবনপণ সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী দলীয় নেতা-কর্মীদের সম্মানে এই সভার আয়োজন করা হয়।
মঞ্জু বলেন, জুলাই আন্দোলনের কোনো ঘাটতি থাকলে আমরা গঠনমূলকভাবে তা তুলে ধরব, কিন্তু গণ-অভ্যুত্থানকে হেয় করার কোনো অপচেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না। যারা আজ জুলাইকে খাটো করার চেষ্টা করছে, তাদের অতীত পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তারা বরাবরই জুলাইবিরোধী শক্তির অংশ ছিল। অতীতে আবরার ফাহাদ বা বিশ্বজিৎ হত্যার মতো ঘটনায় তারা সোচ্চার ছিল না।
শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রায় তিন শতাধিক সংসদীয় আসন নিয়ে ক্ষমতায় থাকার পরেও জনগণের গণ-অভ্যুত্থানের মুখে তাকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছিল স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জনগণের দেওয়া প্রতিষেধক।
নিজের দলের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, "জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কথা উঠলেই এবি পার্টির নাম সামনে আসে, কারণ আমরা অসীম ত্যাগ ও সাহসের মধ্য দিয়ে এই অবস্থান অর্জন করেছি। আন্দোলনের সময় আমাদের কার্যালয় গোয়েন্দা নজরদারিতে ছিল, কারফিউ ভেঙে মিছিল হয়েছে এবং আমাদের নেতা-কর্মীরা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আন্দোলন সফল না হলে আমাদের দল নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত।"
সভায় দলের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, এবি পার্টি মধ্যপন্থা ও গণভিত্তিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। এখন দলের রাজনীতির দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়েছে, যেখানে জনগণের আস্থা ও সমর্থন অর্জনের লক্ষ্যে ভোটের রাজনীতির মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে।
ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খানের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবিএম খালিদ হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসাইন, যুব পার্টির আহ্বায়ক শাহাদাতুল্লাহ টুটুলসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা।