শুরুর একদম শেষ দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। আর এই বিশ্বমঞ্চের মহাযজ্ঞকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে ঢাকার ধামরাইজুড়ে। প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় টানানো হয়েছে বিশালাকার ব্যানার, ফেস্টুন ও রঙ-বেরঙের পতাকা। বিশ্বকাপ শুরুর প্রহর গুনতে গুনতে সমর্থকদের মধ্যে এখন বিরাজ করছে বাড়তি উচ্ছ্বাস ও বাঁধভাঙা আনন্দ।
বিশ্বকাপের আর মাত্র একদিন বাকি। এরই মধ্যে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, পর্তুগাল, জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশের সমর্থকরা নিজ নিজ দলকে শুভকামনা জানিয়ে নানা আয়োজন শুরু করেছেন। ধামরাইয়ের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সমর্থকদের এসব চোখধাঁধানো আয়োজন পুরো এলাকার বিশ্বকাপের আবহকে আরও বেশি প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
ধামরাই উপজেলার কুশুরা ইউনিয়নের হরিদাসপুর গ্রামে আর্জেন্টিনার সমর্থকরা প্রায় ৬০ ফুট দীর্ঘ একটি বিশাল ব্যানার টানিয়ে তাদের প্রিয় ‘আলবিসেলেস্তে’দের শুভকামনা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, সদর ইউনিয়নের শরিফবাগ এলাকায় দেখা গেছে আরও ব্যতিক্রমী দৃশ্য। সেখানকার একটি লোহার সেতুজুড়ে সারিবদ্ধভাবে টানানো হয়েছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার অসংখ্য পতাকা। বৈরিতার উর্ধ্বে উঠে একই সেতুতে দুই দলের এই নান্দনিক সাজসজ্জা ইতোমধ্যে স্থানীয়দের দৃষ্টি কেড়েছে এবং এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এছাড়াও ধামরাইয়ের বিভিন্ন হাট-বাজার ও পাড়া-মহল্লায় অন্যান্য দলের সমর্থকরাও ব্যানার ও ফেস্টুন টানিয়ে নিজেদের সরব উপস্থিতির জানান দিচ্ছেন। সব মিলিয়ে পুরো ধামরাই যেন রূপ নিয়েছে মিনি এক ফুটবল বিশ্বকাপে।
শুধু ঘরবাড়ি কিংবা রাস্তাঘাট সাজসজ্জাতেই সীমাবদ্ধ নেই সমর্থকদের এই উন্মাদনা। প্রিয় দলের খেলা দলবেঁধে উপভোগ করার জন্য ধামরাইয়ের বিভিন্ন মোড়ে, ক্লাবে ও উন্মুক্ত স্থানে বড় পর্দা ও প্রজেক্টরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা ও তরুণ প্রজন্ম একসঙ্গে বসে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো উপভোগ করতে পারবেন।
স্থানীয় প্রবীণ ও সচেতন মহলের মতে, ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু একটি ক্রীড়া আয়োজন নয়; এটি সব ভেদাভেদ ভুলে মানুষের মধ্যে আনন্দ, সম্প্রীতি ও উৎসবের এক মেলবন্ধন তৈরি করে। আর সেই ফুটবল উৎসবেই এখন বুঁদ হয়ে মেতে উঠেছে গোটা ধামরাই।








মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!