দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেটে আধুনিক গণপরিবহন ও যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে এই খাতের মেগা পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এটি বিএনপি সরকারের ১৭তম এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে তাঁর প্রথম বাজেট।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, সরকারের মূল লক্ষ্য বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি’র পথে এগিয়ে নেওয়া। আর এই লক্ষ্য অর্জনে সামাজিক নিরাপত্তা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য যোগাযোগ অবকাঠামোতে একগুচ্ছ যুগান্তকারী প্রস্তাব করা হয়েছে।
যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতে প্রস্তাবিত প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
রিং রোড ও রেডিয়াল রোড: ঢাকার দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার স্থায়ী নিরসনে রাজধানীতে রিং রোড ও রেডিয়াল রোড নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প: সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে ‘সেফটি সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ ভিত্তিক ‘বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প’-এর কার্যক্রম পুনরায় চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
স্মার্ট ট্রাফিক ও টোল: মহাসড়ক ও সেতুগুলোতে আধুনিকায়ন নিশ্চিত করতে ইলেকট্রনিক টোল এবং স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মেট্রোরেল ও মনোরেল: ৬টি মেট্রোরেল লাইনের সমন্বয়ে রাজধানীজুড়ে একটি আধুনিক গণপরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে। এর পাশাপাশি মেট্রোরেলের মূল লাইনের সঙ্গে যাত্রীদের সংযোগ বাড়াতে নির্মিত হবে ‘মনোরেলভিত্তিক ফিডার নেটওয়ার্ক’।
ইলেকট্রিক বাস: পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ঢাকার পুরোনো বাসগুলো পর্যায়ক্রমে ইলেকট্রিক বাস দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হবে।
তিনটি মেগা প্রকল্প: দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে দ্বিতীয় যমুনা সেতু, তৃতীয় মেঘনা সেতু এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের জন্য নীতিগত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
ঢাকা-কুমিল্লা কর্ডলাইন: রেলযোগাযোগে সবচেয়ে বড় সুখবর হলো ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ঢাকা-কুমিল্লা অংশে কর্ডলাইন নির্মাণ করা হবে। এর ফলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের রেল পথের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমে আসবে এবং যাতায়াতের সময় বাঁচবে।
লজিস্টিক হাব: ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলওয়ে করিডোর প্রতিষ্ঠা এবং দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামকে একটি আন্তর্জাতিক মানের লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
১৪টি নতুন বোয়িং: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর শক্তিশালী ও আন্তর্জাতিক রুটে সক্ষমতা বাড়াতে বিমান প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি আধুনিক উড়োজাহাজ ক্রয়ের লক্ষ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
থার্ড টার্মিনাল ও ওয়াইফাই: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল শীঘ্রই চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া যাত্রীদের ডিজিটাল সুবিধা দিতে বিমানবন্দরের প্রায় ৯৪ হাজার বর্গমিটার জায়গাজুড়ে হাই-স্পিড ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক গেটওয়ে: ঢাকার বাইরে বিমান যোগাযোগ বাড়াতে কক্সবাজার, যশোর, রাজশাহী এবং সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে হিসেবে গড়ে তোলা হবে।








মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!