তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিকম খাতের বিকাশে মোবাইল সিমের ওপর আরোপিত ৩০০ টাকার সুনির্দিষ্ট কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে তিনি এই ঘোষণা দেন।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, আইসিটিকে থ্রাস্ট সেক্টর (অগ্রাধিকার খাত) হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার এ খাতে ট্যাক্স, ভ্যাট ও লাইসেন্সিং নীতিমালা সংস্কারের ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বর্তমানে দেশের টেলিকম সেক্টরে করের হার প্রায় ৫০ শতাংশ এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে তা প্রায় ২৫ শতাংশ, যা বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। তাই এ খাতের সার্বিক বিকাশের স্বার্থে সরকার এ ধরনের ট্যাক্স ক্রমান্বয়ে যৌক্তিক হারে কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে উপস্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে সামগ্রিক আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বাজেটের এই বিশাল ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক—উভয় উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান খাত থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে আরও ১৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
এবারের বাজেটে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা। এছাড়া আগামী অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।








মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!