আগামী অর্থবছর থেকে করদাতাদের জন্য উন্মোচিত হচ্ছে সারা বছর আয়কর রিটার্ন দাখিলের নতুন দিগন্ত। তবে নির্ধারিত সময়ের পর রিটার্ন দিলে গুনতে হবে বাড়তি টাকা, আর সময়ের আগে দিলে মিলবে আকর্ষণীয় কর ছাড়।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, অর্থবছরকে মোট ৪টি প্রান্তিকে ভাগ করে কর রেয়াত ও অতিরিক্ত মাশুলের হার নির্ধারণ করা হয়েছে:
এক নজরে নতুন কর কাঠামো
| সময়সীমা (প্রান্তিক) | রিটার্ন দাখিলের সময় | সুবিধা / অতিরিক্ত মাশুল |
| ১ম প্রান্তিক | জুলাই – সেপ্টেম্বর | ৫% কর ছাড় (সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত) |
| ২য় প্রান্তিক | অক্টোবর – ডিসেম্বর | কোনো ছাড় বা জরিমানা নেই (স্বাভাবিক কর) |
| ৩য় প্রান্তিক | জানুয়ারি – মার্চ | ২% অতিরিক্ত অর্থ বা ৩,০০০ টাকা (যেটি বেশি) |
| ৪র্থ প্রান্তিক | এপ্রিল – জুন | ৫% অতিরিক্ত অর্থ বা ৫,০০০ টাকা (যেটি বেশি) |
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে এই যুগান্তকারী ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। করদাতাদের সময়মতো রিটার্ন দাখিলে উৎসাহিত করা এবং কর প্রশাসনকে আরও সুশৃঙ্খল ও আধুনিক করার লক্ষ্যেই এ ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রথম প্রান্তিক (জুলাই–সেপ্টেম্বর): এই সময়ে রিটার্ন দাখিল করলে করদাতারা বড় ধরনের আর্থিক সুবিধা পাবেন। পরিশোধযোগ্য করের ওপর ৫ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা (যেটি কম), সেই পরিমাণ কর ছাড় বা রেয়াত দেওয়া হবে।
দ্বিতীয় প্রান্তিক (অক্টোবর–ডিসেম্বর): এই তিন মাসকে ‘স্বাভাবিক সময়’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এ সময়ে রিটার্ন দাখিল করলে কোনো অতিরিক্ত কর ছাড় মিলবে না, আবার কোনো জরিমানাও গুনতে হবে না। করদাতারা শুধু তাদের নির্ধারিত স্বাভাবিক কর পরিশোধ করবেন।
তৃতীয় প্রান্তিক (জানুয়ারি–মার্চ): এই সময়ে রিটার্ন দিলে করদাতাকে জরিমানা বা অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হবে। পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ অথবা ৩ হাজার টাকা (যেটি বেশি), সেই পরিমাণ বাড়তি অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
চতুর্থ প্রান্তিক (এপ্রিল–জুন): অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরও বেশি। এ সময়ে রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা ৫ হাজার টাকা (যেটি বেশি), সেই পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ জরিমানা হিসেবে দিতে হবে।
মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!