হামাস অস্ত্র সমর্পণ ও সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ না করা পর্যন্ত যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার পুনর্গঠনের অনুমতি যুক্তরাষ্ট্র দেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

সোমবার (১৭ আগস্ট) ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর এই মন্তব্য করেন কুশনার। এর আগে গাজা সংকটের অবসান ঘটাতে মার্কিন উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত রোববার হামাস কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেছিলেন তিনি।

হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র ও তাদের সুড়ঙ্গগুলো হস্তান্তর না করা পর্যন্ত গাজা পুনর্গঠনের কোনো অনুমতি দেওয়া হবে না। দীর্ঘস্থায়ী সংঘঘাতপূর্ণ এলাকায় এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে কোনো পক্ষই সেখানে নতুন করে অর্থ বিনিয়োগ করতে চায় না।

গাজায় তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি দেখা দিলে ইসরাইলের আত্মরক্ষার অধিকার সীমিত করা হবে না বলে উল্লেখ করেন কুশনার। আগামী ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে হামাস স্বেচ্ছায় অস্ত্র ও সুড়ঙ্গ হস্তান্তর করলে ইসরাইলের জন্য এটি একটি বড় নিরাপত্তা হুমকি দূর করবে এবং উভয়পক্ষের জন্যই লাভজনক পরিস্থিতি তৈরি হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এর আগে একটি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে হামাস অস্ত্র ত্যাগে সম্মত হলেও ইসরাইল তা প্রত্যাখ্যান করে জানায়, গাজা পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো ছাড় দেবে না। তবে সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজায় ইসরাইলি হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, হামাস অস্ত্র সমর্পণে সম্মত হয়েছে, তাই ইসরাইলিদের এখন গাজায় হামলা চালানো উচিত নয়।

এদিকে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৩৯৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গত বছর যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকে উপত্যকাটিতে নতুন করে অন্তত এক হাজার ২৬৫ জন নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হামাসের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে কুশনার জানান, তাদের আলোচনা ‘সৌহার্দ্যপূর্ণ’ হলেও অতীতে ভয়াবহ নৃশংসতার ইতিহাস থাকায় ওয়াশিংটন কথার চেয়ে কাজের মাধ্যমেই হামাসকে মূল্যায়ন করবে।