বর্ষা পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই সামান্য বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম নগরী। শুক্রবার (১২ জুন) মাত্র ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতেই নগরের গুরুত্বপূর্ণ কাতালগঞ্জ ও এর আশপাশের এলাকাগুলোতে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল, চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।

শুক্রবার বিকেলে কাতালগঞ্জ মোড় থেকে পাঁচলাইশ রোড এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এক নজিরবিহীন দৃশ্য। সড়কের বিভিন্ন অংশ কোথাও হাঁটু তো কোথাও কোমরসমান পানির নিচে ডুবে আছে। নোংরা পানি মাড়িয়েই চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও পথচারীদের।

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন পাঁচলাইশ এলাকার হাসপাতালগুলোতে আসা রোগী, তাদের স্বজন এবং জরুরি কাজে বের হওয়া সাধারণ মানুষ। রাস্তায় কোমরসমান পানির কারণে অনেক যানবাহন বিকল হয়ে মাঝপথেই আটকে পড়ে, যার ফলে এলাকা জুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

দুর্জয় দাস নামে এক ভুক্তভোগী পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "বর্ষা তো এখনও পুরোপুরি শুরুই হয়নি। সামান্য বৃষ্টিতেই যদি কোমরসমান পানি জমে যায়, তাহলে ভারী বর্ষণ হলে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হবে তা ভাবতেই ভয় লাগছে।" আরফাতুল ইসলাম নামে আরেক পথচারী বলেন, "জলাবদ্ধতা নিরসনে বছরের পর বছর ধরে কোটি কোটি টাকার মেগা প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে, অথচ সামান্য বৃষ্টিতেই আমাদের এই নোংরা পানি মাড়িয়ে চলতে হচ্ছে। এই দুর্ভোগের শেষ কোথায়?"

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে আবহাওয়া অধিদপ্তরের দুটি কার্যালয়ের পর্যবেক্ষণে যথাক্রমে ৩০ মিলিমিটার ও ৩.১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম আবহাওয়া কার্যালয়ের পূর্বাভাস কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইসমাঈল ভুঁইয়া জানান, মূলত মৌসুমি বায়ুর প্রভাবেই এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এই বৃষ্টি আরও কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হতে পারে এবং রাতে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া সাগর কিছুটা উত্তাল থাকায় উপকূলীয় এলাকায় সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সামান্য বৃষ্টিতে নগরীর এই জলমগ্ন পরিস্থিতির মধ্যেই মাঠপর্যায়ে পরিদর্শনে নেমেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

বৃষ্টির মধ্যেই তিনি নগরের বিভিন্ন জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা, জলমগ্ন সড়ক, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাল ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় নালা-নর্দমা দ্রুত পরিষ্কার করে জমে থাকা পানি নামিয়ে দেওয়ার জন্য এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় ও জরুরি নির্দেশনা দেন চসিক মেয়র।