২০২৬ বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফি জয়ের মিশন নিয়ে অবশেষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে পর্তুগাল ফুটবল দল। শুক্রবার (১২ জুন) ‘সিটি অব ফুটবল’ বেজক্যাম্প থেকে দল নিয়ে উড়াল দেওয়ার আগে অবধারিতভাবেই পর্তুগাল জাতীয় দলের প্রধান মুখপাত্রের ভূমিকায় দেখা গেল অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে।

৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকা নিজেদের সরাসরি শিরোপার প্রধান দাবিদার বলে দলের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে চাননি, তবে ট্রফি জয়ের স্বপ্ন ও আশা ধরে রাখছেন পুরোপুরি।

পর্তুগাল জাতীয় দলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা রোনালদো তাঁর ক্যারিয়ারের আরও একটি বিশ্বকাপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পেয়ে নিজের উচ্ছ্বাস ও দলের অনুপ্রেরণার কথা ব্যক্ত করেছেন।

পর্তুগিজ গণমাধ্যম ‘এ বোলা’-র বরাত দিয়ে সিআরসেভেন বলেন, "আমরা অত্যন্ত আনন্দ ও রোমাঞ্চ নিয়ে বিশ্বকাপের উদ্দেশ্যে যাচ্ছি। আমরা জানি যে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপের মতোই বিশ্বকাপও সবসময় একটি বিশেষ এবং ভিন্ন মর্যাদার প্রতিযোগিতা। আমরা মনে অনেক আশা নিয়ে যাচ্ছি।"

টুর্নামেন্টের আগে নিজের শারীরিক ও ফিটনেস অবস্থা সম্পর্কে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে স্বভাবসুলভ স্বাচ্ছন্দ্য ও রসিকতার সুরে রোনালদো উত্তর দেন, "আমি খুব ভালো আছি। আপনারা কি সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে আমার খেলা দেখছেন না?"

টানা ভালো ফলাফল এবং সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম সেরা প্রতিভাবান দল নিয়ে এবার বিশ্বকাপে খেলতে এসেছে পর্তুগাল। দলে রোনালদো ছাড়াও রয়েছেন ব্রুনো ফার্নান্দেস, বার্নার্দো সিলভা, রাফায়েল লিও, জোয়াও নেভেস এবং ভিতিনহার মতো ইউরোপের শীর্ষ লিগ কাঁপানো সব ফুটবলাররা।

তবে দলের ওপর থেকে প্রত্যাশার চাপ কমাতে চেয়ে অধিনায়ক বলেন, "সবকিছু শেষেই আমরা নিশ্চিতভাবে জানতে পারব। আমাদের খুব ভালো একটি প্রজন্ম আছে, কিন্তু ফুটবলে এমন কিছু বিষয় আছে যা আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। মাঠের খেলা, জয় বা পরাজয়—এই সবকিছুই পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করে। তবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই প্রজন্ম পর্তুগিজ জনগণকে অনেক বড় আনন্দ দেবে।"

বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে নামার আগে দলের প্রস্তুতি বেশ কঠোর হয়েছে বলে জানান সিআরসেভেন। তিনি বলেন, "প্রস্তুতির সময়টা বেশ ক্লান্তিকর ছিল কারণ আমরা খুব কঠোর পরিশ্রম করেছি। আমরা প্রস্তুতিমূলক ম্যাচগুলো জিততে পেরেছি, কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসল লড়াইটা শুরু হবে যখন আগামী ১৭ তারিখে আমাদের প্রথম খেলা শুরু হবে।"

রোনালদো মনে করেন, বিশ্বকাপের মতো আসরে একটি দলের আসল পরীক্ষা হয় চরম চাপের মুহূর্তেই। তাঁর ভাষায়, "যখন পরিস্থিতি কঠিন হতে শুরু করবে, তখনই আমরা আসল চ্যাম্পিয়নদের দেখতে পাব। এটা অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করবে, তবে আমি খুবই আশাবাদী যে আমাদের সবকিছু ভালোভাবেই এগোবে।"

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের জটিল সমীকরণ এড়াতে দলের প্রথম লক্ষ্য কী হওয়া উচিত, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই তারকা, "আমাদের জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো গ্রুপ পর্বে প্রথম স্থান অর্জন করা। এরপর শান্ত মাথায়, ধাপে ধাপে, একটার পর একটা ম্যাচ ধরে এগিয়ে যেতে হবে। এভাবেই দল আত্মবিশ্বাস অর্জন করবে এবং প্রতিযোগিতার মূল ছন্দে ফিরবে।"