প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতকে আহ্বায়ক করে একটি সর্বদলীয় সংসদীয় ককাস গঠন করা হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে সাইটসেভার্স, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল (ডিআই) এবং বারডো-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের পরামর্শ সভায় এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
এই ককাসের সহ-আহ্বায়ক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও এমপি সেলিমা রহমান এবং জামায়াতের মহিলা শাখার সম্পাদক ও এমপি নুরুন্নিসা সিদ্দিকী। সভায় জানানো হয়, প্রতিবন্ধিতা কোনো করুণা বা কেবল ভাতার বিষয় নয়; সংবিধান অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিকের মতো তাদেরও সমান অধিকার রয়েছে। সমাজ ও রাষ্ট্রের তৈরি বাধাই মূলত তাদের প্রধান প্রতিবন্ধকতা। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি এবং প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি বাস্তবায়ন কমিটি গঠিত হয়েছে, যা গত ছয় মাসে চারটি বৈঠক করেছে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনমান উন্নয়নে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের কথা জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে নতুন সরকারি ভবনে বাধ্যতামূলক র্যাম্প, লিফট ও প্রতিবন্ধীবান্ধব টয়লেট রাখা এবং ৫০০ উপজেলা হাসপাতালে নির্মাণাধীন ১৫০ শয্যার ভবনে প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করার নির্দেশ। এছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে রাজধানীতে প্রায় ২০০টি হুইলচেয়ার-উপযোগী আধুনিক এসি বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং মেট্রোরেলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বিদ্যমান ২৫ শতাংশ ভাড়ার ছাড় ভবিষ্যতে আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
উক্ত সভায় মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, অ্যাডভোকেট নেওয়াজ হালিমা আরলী, সানসিলা জেবরিন, তাসমিয়া প্রধানসহ বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্য এবং প্রতিবন্ধী সংগঠনের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী, জাতিসংঘ সংস্থা ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ককাসটি প্রতিবন্ধিতা-অন্তর্ভুক্তিমূলক আইন ও নীতির পক্ষে কাজ করা, মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ উৎসাহিত করা এবং আইনপ্রয়োগের তদারকি জোরদার করতে কাজ করবে।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!