সারাদেশে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ কার্যকরভাবে মোকাবিলা ও প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় কমিটিকে পুনর্গঠন করেছে সরকার। নবগঠিত এই উচ্চপর্যায়ের কমিটিতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীকে সভাপতি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রীকে সহ-সভাপতি করা হয়েছে।
আজ সোমবার (১৫ জুন) ৩১ সদস্যের এই শক্তিশালী কমিটি পুনর্গঠন করে সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
পরিপত্র অনুযায়ী, পুনর্গঠিত এই জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব বা সচিব। এছাড়া দেশের দুই প্রধান নগরী ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র অথবা প্রশাসকদের এই কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় বাড়াতে এই কমিটিতে রাষ্ট্রের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের যুক্ত করা হয়েছে। সদস্য হিসেবে থাকছেন: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি। স্বরাষ্ট্র, স্বাস্থ্য সেবা, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বা সচিবরা। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত, প্রতিরক্ষা, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন, রেলপথ, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বা সচিবরা।
কমিটির মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম জোরালো করতে দেশের সব ওয়াসার (WASA) ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (LGED) প্রধান প্রকৌশলী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক এবং দেশের সব সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (CEO) এই কমিটির প্রাতিষ্ঠানিক সদস্য করা হয়েছে।
শুধুমাত্র প্রশাসনিক কর্মকর্তা নয়, মশা নিধনে বৈজ্ঞানিক ও টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞ পর্যায় থেকে তিন শীর্ষ গবেষককে কমিটিতে যুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন: ১. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান।
২. শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যান্টোমলজি (কীটতত্ত্ব) বিভাগের চেয়ারম্যান।
৩. নিপসমের (NIPSOM) অ্যান্টোমলজি বিভাগের প্রধান।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই ৩১ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটি গঠনের ফলে আসন্ন ডেঙ্গু মৌসুমে মশক নিধন ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণে সব সরকারি-বেসরকারি সংস্থার মধ্যে কাজের গতি এবং সমন্বয় আরও বৃদ্ধি পাবে।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!