দেশের মঞ্চনাটকের বিকাশের অন্যতম পথিকৃৎ ‘মঞ্চসারথি’ খ্যাত গুণী নাট্যজন আতাউর রহমান গত ১২ মে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। আগামীকাল (১৮ জুন) এই বরেণ্য ব্যক্তিত্বের ৮৫তম জন্মদিন। বেঁচে থাকলে হয়তো কাছের মানুষদের নিয়ে হাসি-আনন্দে দিনটি কাটত, কিন্তু তার আগেই তিনি পাড়ি জমিয়েছেন অনন্তলোকে।
প্রিয় নাট্যজনকে হারানোর শোকের আবহেই তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজন করা হচ্ছে বিশেষ স্মরণানুষ্ঠান। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর মহিলা সমিতির ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে তাঁর জন্মজয়ন্তী উদযাপন। মঞ্চসারথি আতাউর রহমান কর্ম উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নাট্যাংশ, গান, কবিতা ও সেমিনারের মধ্য দিয়ে তাঁকে স্মরণ করা হবে।
এবারের জন্মজয়ন্তীর সেমিনারের বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘নাট্য নির্দেশনায় আতাউর রহমানের অন্তর্দৃষ্টি’। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফর্মেন্স স্টাডিস বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমেদুল কবির। অনুষ্ঠানে দেশের নাট্যাঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত থাকবেন।
একাধারে নাট্যজন, অভিনেতা, মঞ্চ নির্দেশক ও লেখক আতাউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক বহুমাত্রিক আলোকবর্তিকা।
জন্ম: ১৯৪১ সালের ১৮ জুন, নোয়াখালীতে। শিক্ষা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর। নাট্যদল: দেশের কালজয়ী নাট্যদল ‘নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। কালজয়ী নির্দেশনা: ‘বুড়ো সালিকের ঘাড়ে রোঁ’, ‘গডোর প্রতীক্ষায়’, ‘গ্যালিলিও’, ‘ঈর্ষা’, ‘রক্তকরবী’, ‘ক্রয়লাদ ও ক্রেসিদা’, ‘এখন দুঃসময়’সহ অসংখ্য প্রশংসিত নাটকের সফল নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক অঙ্গন: ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউট (ITI)-এর বাংলাদেশ শাখা এবং পরবর্তীতে বিশ্ব শাখার সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি: শিল্প ও সংস্কৃতিতে অনন্য অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাঁকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার-এ ভূষিত করে।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!