ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে রাতের আঁধারে ঘরের দরজা ভেঙে প্রবেশ করে স্বামীর হাত-পা ও মুখ বেঁধে এক গৃহবধূকে (২৫) তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দিবাগত রাতে উপজেলার পাগলা থানা এলাকায় এই নৃশংস ঘটনা ঘটে।
বুধবার (১৭ জুন) এই ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূর মা বাদী হয়ে আটজনকে অভিযুক্ত করে পাগলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী নারীর স্বামী ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, "আমরা ঘরের দুটি কক্ষের একটিতে মা এবং অন্যটিতে সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করি। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে আটজন মুখ বাঁধা অবস্থায় হঠাৎ আমাদের ঘরে ঢোকেন। তারা ঘরে ঢুকেই প্রথমে আমাকে মারধর করেন এবং আমার হাত, পা ও মুখ বেঁধে ফেলেন। এ সময় আমার স্ত্রী আমাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা তাকে জোরপূর্বক ঘর থেকে তুলে নিয়ে যান।"
স্বজনরা জানান, ঘর থেকে প্রায় ১৫০ মিটার দূরে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে ওই গৃহবধূর ওপর সংঘবদ্ধ পাশবিক নির্যাতন চালায় দুর্বৃত্তরা। পরে স্বজনরা বিষয়টি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
"আমি এক অসহায় মা। আমার স্বামী প্রতিবন্ধী আছিল, মইরা গেছে। এই মায়াডারে (মেয়ে) লইয়া থাকতাম। যারা আমার মায়াডার এই সর্বনাশ করছে, আমি তাগর কঠিন বিচার চাই।"
— ভুক্তভোগী নারীর মা
ঘটনার পর থেকে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন:
"সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার শিকার ওই নারীকে ফরেনসিক পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।"
তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়েরের বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং অভিযুক্ত অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!