বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ব্যাংকিং সহযোগিতা, রেনমিনবি (আরএমবি/ইউয়ান) ভিত্তিক লেনদেন সহজ করা এবং বাণিজ্য-বিনিয়োগ জোরদারে দুটি সমঝোতা স্মারক (MoU) সই করেছে বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই)।
চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিংয়ে গত ১১ থেকে ১৬ জুন অনুষ্ঠিত ‘১০ম চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপো’ এবং ‘৩০তম চায়না কুনমিং আমদানি-রপ্তানি মেলায়’ অংশ নিয়ে সংগঠনটি এই চুক্তি সই করে। বিসিসিসিআই সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল এই এক্সপোতে অংশ নেয়। গতকাল বুধবার (১৭ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিসিসিসিআই সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন:
"চীনের মতো বৃহৎ বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে উচ্চমানের, মূল্য সংযোজিত ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে ব্র্যান্ডিং, প্যাকেজিং এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় আরও কৌশলগতভাবে অংশগ্রহণের ওপর জোর দিতে হবে।"
এবারের এক্সপোতে বাংলাদেশ ছিল ‘থিম কান্ট্রি’। বিসিসিসিআই’র উদ্যোগে আমানত শাহ গ্রুপ, টেকনো ড্রাগস লিমিটেড, আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড, আইমান এগ্রো লিমিটেড, এমএম ট্রেড এবং বিসিসিসিআইসহ ছয়টি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নেয়। এ ছাড়া রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও কুনমিংয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের সমন্বয়ে গঠিত ‘বাংলাদেশ কান্ট্রি প্যাভিলিয়নে’ ১০০টিরও বেশি বাংলাদেশি কোম্পানি তাদের পণ্য প্রদর্শন করে।
এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে ব্যাংকটির প্রতিনিধি কার্যালয় স্থাপনে সহায়তা করবে বিসিসিসিআই। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে ব্যাংকিং সহযোগিতা বৃদ্ধি, রেনমিনবি ভিত্তিক বাণিজ্যিক লেনদেন সহজ করা, বাণিজ্য নিষ্পত্তি ত্বরান্বিত করা এবং লেনদেন ব্যয় কমানোর উপায় খোঁজা হবে।
চায়না চেম্বার অব কমার্স ফর ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট অব মেশিনারি অ্যান্ড ইলেকট্রনিক প্রোডাক্টসের (সিসিসিএমই) সঙ্গে সই হওয়া এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বিনিময়, তথ্য আদান-প্রদান এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে।
মেলা চলাকালীন ১২ জুন কুনমিংয়ের বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ডে’ অনুষ্ঠানে বিসিসিসিআইর ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মাসুদ আলী খান বক্তব্য দেন। এ সময় বিসিসিসিআই সভাপতির উপদেষ্টা ফাইজুল আলম বিদ্যুৎ বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্র, চামড়া, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ওষুধশিল্প, বৈদ্যুতিক যান (ইভি) এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-সহ ৭টি অগ্রাধিকার খাতের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরে একটি বিশেষ উপস্থাপনা করেন। এতে চীনা ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাংলাদেশে যৌথ উদ্যোগে কাজ করার বিষয়ে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিসিসিসিআই।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!