লুইজিয়ানার সিনেটর বিল ক্যাসিডি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকটিকে ‘কয়েক দশকের সবচেয়ে বড় পররাষ্ট্রনীতিগত ভুল’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের সঙ্গে অন্তবর্তীকালীন চুক্তিটি তার সহকর্মী রিপাবলিকানদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। তাদের যুক্তি, এই চুক্তিতে করদাতাদের শত শত কোটি ডলারের অপচয় হচ্ছে এবং তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে এটি তেমন কোনো ভূমিকা রাখে না।

বুধবার স্বাক্ষরিত ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকের অধীনে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান লেবাননসহ “সকল রণাঙ্গনে সামরিক অভিযানের অবিলম্বে ও স্থায়ী সমাপ্তি” ঘটাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে।

তেহরান হরমুজ প্রণালী সম্পূণরূপে পুনরায় খুলে দিতে সম্মত হয়েছে, যা ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে কার্যত বন্ধ ছিল। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন ইরানের পুনর্গঠন ও উন্নয়নের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলার তহবিল প্রদানের লক্ষ্যে “একটি সুনির্দিষ্ট, পারস্পরিকভাবে সম্মত পরিকল্পনা প্রণয়নের” প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এই চুক্তিতে ইরানের পক্ষ থেকে পারমাণবিক অস্ত্র সংগ্রহ বা তৈরি না করার একটি অঙ্গীকারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি, যিনি নিজ দলের মধ্যে ট্রাম্পের একজন বিরল সমালোচক এবং সম্প্রতি তৃতীয় মেয়াদের জন্য প্রাইমারিতে পরাজিত হয়েছেন, এই সমঝোতা স্মারকটিকে “কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পররাষ্ট্রনীতিগত ভুল” বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন।

“রিগান কবরে ছটফট করছেন,” এক্স-এ বলেছেন ক্যাসিডি, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগানের কথা উল্লেখ করে, যাঁকে রক্ষণশীল আন্দোলনের একজন প্রতীকী ব্যক্তিত্ব হিসেবে ব্যাপকভাবে বিবেচনা করা হয়।

তিনি বলেন, “ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাক্সক্ষা দমন করা যায়নি এবং তারা শিখেছে যে হরমুজ প্রণালীকে হুমকি দিলে তা কার্যকর হয় এবং ভবিষ্যতে তারা নিঃসন্দেহে এটিকে কাজে লাগাবে।”

এখন, এই চুক্তির অধীনে ইরান একেবারে নতুন অবকাঠামো নির্মাণ করার সুযোগ পাবে।

কেন্টাকির রিপাবলিকান সিনেটর টমাস ম্যাসি, যিনি সম্প্রতি ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থী এড গ্যালরিনের কাছে প্রাইমারি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হেরেছেন, তিনি ৩০০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা পরিকল্পনাটি অন্তর্ভুক্ত করার সমালোচনা করে দাবি করেছেন যে, এই অঙ্কটি মার্কিন কংগ্রেস প্রতি বছর রাস্তা ও সেতুর জন্য যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে, তার পাঁচ গুণ বেশি।

ট্রাম্পের প্রথম প্রশাসনের সময় জাতিসংঘে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালিও প্রায় চার মাসব্যাপী যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে ইরানকে পুনর্গঠনে সাহায্য করার ব্যাপারে ওয়াশিংটনের অঙ্গীকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

এই শাসনব্যবস্থা ‘আমেরিকার ধ্বংস হোক’ স্লোগান দেয়, আমাদের সৈন্যদের হত্যা করে এবং মার্কিন ভূখ-ে আমেরিকানদের গুপ্তহত্যার চেষ্টা করে,” হ্যালি এক্স-এ বলেছেন।

তারা বিশ্বাস করে যে, আমাদের ধ্বংস করা তাদের দায়িত্ব। এখন, আমরা শত শত কোটি ডলার ছাড় করার এবং নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা করছি, সাথে আরও বেশি অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।

ট্রাম্পের এই পরিকল্পনাটি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে করা আরও বিস্তারিত চুক্তির সঙ্গে নেতিবাচকভাবে তুলনীয় হয়ে উঠেছে, যে চুক্তির অধীনে তেহরান নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিনিময়ে তার পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপে সম্মত হয়েছিল।

ট্রাম্প ২০১৮ সালে এই চুক্তি থেকে সরে আসেন এবং বলেন যে এটি “ইরানি শাসকগোষ্ঠীকে সমৃদ্ধ করেছে এবং তাদের বিদ্বেষপূর্ণ আচরণকে সক্ষম করেছে।”

ট্রাম্পের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী মাইক পেন্স বুধবার বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকটি “সেই ধরনের তোষণ নীতিরই ইঙ্গিত দেয়, যা আমাদের প্রশাসন ওবামা-ইরান পারমাণবিক চুক্তিতে প্রত্যাখ্যান করেছিল।”

পেন্স বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এমন একটি চুক্তির দিকে অগ্রসর হওয়া উচিত যা “ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিরসনে, সন্ত্রাসী প্রক্সিদের প্রতি সমর্থন বন্ধে এবং প্রণালীটি উন্মুক্ত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করবে।”

তা না হলে, আমাদের সশস্ত্র বাহিনীকে আমাদের শর্তে কাজটি শেষ করতে দেওয়া উচিত,” পেন্স এক্স-এ বলেছেন।

টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজ ওবামা চুক্তির সঙ্গে তুলনা থেকে সমঝোতা স্মারকটিকে রক্ষা করলেও, ইরানকে তহবিল প্রদানের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

আমি রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করতে চাই তিনি যেন এই বিজয় হাতছাড়া না করেন; আমরা তাদের সামরিক বাহিনীকে ধ্বংস করে দিয়েছি, এবং তাদের পুনর্গঠনে আমাদের অর্থায়ন করা উচিত নয়,” ক্রুজ এক্স-এ বলেছেন। [আল জাজিরার সৌজন্যে]