ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মোট ৬৩টি ওয়ার্ড ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে রয়েছে, যার মধ্যে ২৮টি ওয়ার্ডকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেছেন, জনসচেতনতা ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।
শনিবার (৬ জুন) সকালে ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, "আমাদের জরিপে উঠে এসেছে দক্ষিণ সিটির ৬৩টি ওয়ার্ড ঝুঁকিপূর্ণ এবং এর মধ্যে ২৮টি ওয়ার্ড অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণের দায়িত্ব ৫০ শতাংশ এবং সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব ৫০ শতাংশ। এই দুই পক্ষ মিলে কাজ করলেই কেবল ডেঙ্গু শতভাগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।"
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়ে বলেন, আগামী দুই থেকে তিনদিন পর থেকেই নিয়মিত মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালনা করা হবে।
এবারের ডেঙ্গু পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকরা আশঙ্কা করছেন এবার ডেঙ্গুর রূপ হতে পারে অত্যন্ত মারাত্মক, যার নাম 'হেমোরেজিক ডেঙ্গু'।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "যেকোনো বাসাবাড়ি বা প্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু মশার লার্ভা পাওয়া গেলে সেখানকার সংশ্লিষ্টদের কঠোর জরিমানা করা হবে। মশার উৎস ধ্বংস করতে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।"
চিকিৎসকদের মতে, এবার ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগীদের শরীরের অভ্যন্তরে রক্তক্ষরণের তীব্র আশঙ্কা রয়েছে। তাই জ্বর হওয়া মাত্রই অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং আগে থেকেই সবাইকে সর্বোচ্চ সচেতন থাকতে হবে।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!