দেশের তরল জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত লাইসেন্সের কড়াকড়ি, নানামুখী আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং ক্রমবর্ধমান আর্থিক ঝুঁকির কারণে ব্যবসা পরিচালনা করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি। তাদের দাবি, বর্তমানে এই খাতে একটি মাত্র ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রায় ১০ ধরনের ভিন্ন ভিন্ন লাইসেন্স প্রয়োজন হয়, যা সংগ্রহ ও নবায়ন করতে দীর্ঘ সময়, অতিরিক্ত অর্থ এবং নানা প্রশাসনিক হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়।
রোববার (২১ জুন ২০২৬) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিশেষ বার্তায় সংগঠনটি এসব সংকটের কথা তুলে ধরে।
বার্তায় সংগঠনটি জানায়, তরল জ্বালানি খাতে পেট্রোল পাম্প মালিকেরা মূলত নামমাত্র কমিশনভিত্তিক এজেন্ট হিসেবে কাজ করেন। বিপরীতে তেল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো মূল মুনাফা অর্জন করে। অথচ মাঠপর্যায়ের এজেন্টদের আগাম অর্থ (অ্যাডভান্স) পরিশোধ করে ডিপো থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় বাজারে প্রতিযোগিতা ও বাস্তবতার কারণে বাকিতে তেল বিক্রি করতে গিয়ে বড় অঙ্কের অনাদায়ি পাওনার আর্থিক ঝুঁকিও তাদেরই বহন করতে হয়।
পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়: ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি প্রতিনিয়ত নতুন নতুন নির্দেশনা ও অযৌক্তিক প্রশাসনিক শর্ত চাপিয়ে দেওয়ায় পরিচালনা খরচ ও মানসিক চাপ দুটোই বাড়ছে। এর ফলে বাজারে সৎ ও নিয়ম মেনে ব্যবসা করা প্রকৃত উদ্যোক্তাদের টিকে থাকা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সরকারের বিভিন্ন মহলে এসব সমস্যা তুলে ধরা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান মেলেনি।
ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সব সমস্যা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত থাকার পরও এই খাতকে গতিশীল করতে ব্যবসাবান্ধব উদ্যোগের তীব্র অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিদ্যমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি সরকারের কাছে দ্রুত ৩টি প্রধান দাবি জানিয়েছে: ১. ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে দ্রুত লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজ ও ওয়ান-উইন্ডো করা। ২. জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অযাচিত প্রশাসনিক জটিলতা ও হয়রানি কমানো। ৩. মাঠপর্যায়ের কমিশন এজেন্টদের জন্য যথাযথ আইনি ও আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!