আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের মোড় পরিবর্তন করে ইরানের তেল বিক্রির ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ইরান-সংশ্লিষ্ট একটি ৬০ দিনের বিশেষ সাধারণ লাইসেন্স জারি করেছে।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের মধ্যে চলমান ফলপ্রসূ আলোচনার ধারাবাহিকতায় ইরান কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান দুটি শর্ত হলো—বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালিতে’ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ ও উন্মুক্ত চলাচল নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) পরিদর্শকদের ইরানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া।
বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল উৎপাদনকারী ও ওপেক (OPEC) সদস্য দেশ ইরান। ফলে মার্কিন ট্রেজারির এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক তেলবাজার, মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ইরানের সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকরা। এই ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে এর প্রভাব পড়তে শুরু করতে পারে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন এই লাইসেন্সের আওতায় আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত ইরানি উৎসের অপরিশোধিত তেল, পেট্রোকেমিক্যাল এবং অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্যের উৎপাদন, সরবরাহ ও বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের এই নাটকীয় পদক্ষেপকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক যোগাযোগের একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
সোমবার (২২ জুন) মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সুনির্দিষ্ট এই সময়সীমার মধ্যে ইরানি তেল ও জ্বালানি পণ্য নিয়ে বাণিজ্যিক লেনদেনের ক্ষেত্রে এই সাধারণ লাইসেন্স কার্যকর থাকবে।
স্কট বেসেন্ট বলেন, "সুইজারল্যান্ডে চলমান গঠনমূলক আলোচনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইরান হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌপরিবহন নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার দিতে সম্মত হয়েছে।" তিনি ইঙ্গিত দেন, তেহরানের এই ইতিবাচক সাড়ার প্রেক্ষাপটেই যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে ইরানের তেল ও জ্বালানি খাতে কিছু লেনদেনের অনুমোদন দিয়েছে।
মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত কার্যকর এই লাইসেন্সের মেয়াদ শেষে সার্বিক পরিস্থিতি এবং ইরানের প্রতিশ্রুতি রক্ষার বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরবর্তী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!