বিদেশি দূতাবাসের নির্ধারিত স্থানীয় এজেন্টদের মাধ্যমে সংগৃহীত ভিসা ও কনস্যুলার ফি বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে বিদেশে পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সোমবার (২২ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংক এই সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সার্কুলার জারি করেছে।
নতুন এই নির্দেশনার ফলে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের মাধ্যমে স্থানীয় ভিসা প্রসেসিং এজেন্টরা বাংলাদেশি মুদ্রায় সংগ্রহ করা ভিসা ফি সরাসরি সংশ্লিষ্ট দূতাবাস, তাদের বিদেশস্থ কার্যালয় বা নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবের অনুকূলে বিদেশে পাঠাতে পারবে। এর ফলে ভিসা সংক্রান্ত অর্থ লেনদেনের প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এতদিন এ ধরনের অর্থ বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট নীতিমালা না থাকায় ব্যাংক এবং ভিসা প্রসেসিং এজেন্টদের বিভিন্ন ধরনের প্রক্রিয়াগত ও আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে হতো। নতুন নির্দেশনার ফলে সেই অনিশ্চয়তা দূর হলো এবং বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ প্রেরণের পথ উন্মুক্ত হলো।
এই সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি শর্ত আবশ্যিক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক: ১. নির্ধারিত হার: ভিসা ফি অবশ্যই সংশ্লিষ্ট দূতাবাস কর্তৃক পূর্বনির্ধারিত হারে সংগ্রহ করতে হবে। ২. ইনভয়েস জমাদান: দূতাবাস বা তাদের অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের ইস্যুকৃত মূল ইনভয়েস জমা দিতে হবে, যার সঙ্গে আবেদনকারীভিত্তিক ফি আদায়ের বিস্তারিত বিবরণী (ব্রেকডাউন) সংযুক্ত থাকতে হবে। ৩. কর পরিশোধ: বিদেশে অর্থ প্রেরণের আগে প্রযোজ্য সব ধরনের সরকারি কর (ট্যাক্স) যথাযথভাবে কর্তন ও পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ভিসা ফি সংগ্রহ এবং প্রেরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অনেক বাড়বে। যদিও সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য ভিসা ফি কমছে না, তবে পুরো প্রক্রিয়াটি আরও সুশৃঙ্খল ও ঝামেলামুক্ত হওয়ায় ভিসা প্রসেসিংয়ের গতি বাড়বে।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!