বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষ একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক সমাজ আশা করলেও, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কোনো কোনো কর্মকাণ্ড এবং কিছু রাজনৈতিক শক্তির আচরণে নতুন করে ফ্যাসিবাদী মানসিকতার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। তবে দেশের স্বার্থবিরোধী এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ড দেশবাসী মেনে নেবে না।
বুধবার (২৪ জুন) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে বিএনপি সব সময় আপসহীন অবস্থানে রয়েছে। দীর্ঘ স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটলেও এখনো ফ্যাসিবাদের দোসররা নানামুখী ষড়যন্ত্র করছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য যাই থাক না কেন, দেশবিরোধী কোনো চক্রান্তের সুযোগ দেওয়া হবে না।
দেশের অর্থনৈতিক ও বৈদেশিক সম্পর্কের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, "বাংলাদেশকে আর কোনো দেশের ওপর পরনির্ভরশীল অবস্থায় রাখা যাবে না। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত একটি আত্মনির্ভরশীল, অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম এবং আধুনিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা। আর এর জন্য সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত শক্তিশালী করা এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।"
আইনের শাসন ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে রিজভী বলেন, বিগত সরকারের আমলে গুম, ক্রসফায়ার এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, তা পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। নাগরিক অধিকার সুরক্ষা এবং শতভাগ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই এই মুহূর্তে প্রধান অগ্রাধিকার। একই সাথে, গত জুলাই-আগস্টের গণহত্যাকারীদের বিচারিক কার্যক্রম যেন কোনোভাবেই মন্থর না হয়, বরং তা নিজস্ব গতিতে ও কঠোরভাবে এগিয়ে নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন—স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি ডা. জাহিদুল কবির, যুবদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল রানা, কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, যুগ্ম সম্পাদক রাজু আহমেদ প্রমুখ।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!