বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সুফিবাদের ঐতিহ্যের ওপর আঘাত এবং উগ্রপন্থার প্রসারে জাতীয় সংসদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি দেশে চলমান অসহিষ্ণুতা ও সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন।
সংসদে ফজলুর রহমান বলেন, ‘১২০৪ খ্রিস্টাব্দের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, এই দেশ হিন্দু ও বৌদ্ধদেরও ছিল। তারা আমাদের দেশেরই প্রায় দেড় কোটি মানুষ এবং তাদের পূর্বপুরুষের মাটি এটি।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘হিন্দুরা তাদের মন্দিরে যত খুশি বড় মূর্তি বানিয়ে পূজা করুক, আর মুসলমানরা ২৫ তলা মসজিদ বানিয়ে নামাজ পড়ুক—এতে কারো কোনো ক্ষতি হওয়ার কথা নয়। বরং এই বহুত্ববাদই এ দেশের আসল সৌন্দর্য।’
র্তমানে এক শ্রেণির 'পোশাকধারী ধর্ম ব্যবসায়ীরা' অলি-আউলিয়াদের সুফিদর্শন ও দেশের সংস্কৃতি ধ্বংস করতে মেতে উঠেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। কুষ্টিয়া, ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পীর-মাশায়েখদের হত্যা এবং শাহজালালের (রহ.) মাজার ভাঙার জন্য পুরস্কার ঘোষণার মতো নৃশংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান তিনি। ফজলুর রহমান বলেন, ‘যদি সরকার মনে করে দেশে মন্দির বা মূর্তি তৈরি করা যাবে না, তবে তা আইন করে কঠোরভাবে বন্ধ করে দিক। কিন্তু তা না হলে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার ও মাজার সংস্কৃতির ওপর আঘাত কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, জোর করে কারো ওপর কোনো মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার অধিকার কারো নেই। যার ইচ্ছা সে মাজারে যাবে, কেউ চাইলে আহলে হাদিস পালন করবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু অন্যের উপাসনালয় বা মাজার ধ্বংস করার এই উগ্রতা ও সংকীর্ণ মানসিকতার বিরুদ্ধে সবাইকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
সংসদের অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে ফজলুর রহমানের এই সাহসী বক্তব্য আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!