বর্তমানে পৃথিবী জুড়ে ভূমিকম্পের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এর ভূ-তাত্ত্বিক কারণ থাকলেও, ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে ঘন ঘন ভূমিকম্পকে কিয়ামতের অন্যতম একটি আলামত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মহানবী (সা.) উম্মতকে বিশেষ কিছু সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন।

হাদিসের আলোকে ভূমিকম্পের প্রেক্ষাপট রাসুলুল্লাহ (সা.) বেশ কিছু হাদিসে এমন পরিস্থিতির কথা বর্ণনা করেছেন, যখন মানুষ নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দেবে। সেই ভয়াবহ সামাজিক প্রেক্ষাপটে পৃথিবীতে তীব্র ভূমিকম্প ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

তিরমিজি শরীফের (১৪৪৭) এক হাদিসে নবীজি (সা.) ভূমিকম্পের কারণ হিসেবে সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন অনাচারকে চিহ্নিত করেছেন

অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জন। গচ্ছিত সম্পদের খেয়ানত বা বিশ্বাসভঙ্গ। জাকাতকে জরিমানা মনে করা। মায়ের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার ও স্ত্রীর আনুগত্য। পিতাকে অবজ্ঞা করে বন্ধুকে গুরুত্ব দেওয়া। মসজিদে উচ্চৈঃস্বরে শোরগোল। নিকৃষ্টতম ব্যক্তির নেতৃত্ব গ্রহণ। বাদ্যযন্ত্র, নারী শিল্পী ও মদ্যপানের ব্যাপক প্রসার।

অন্য একটি হাদিসে (তিরমিজি, ২২১২) রাসুল (সা.) স্পষ্টভাবে বলেছেন, যখন বাদ্যযন্ত্র এবং মদপানের সয়লাব ঘটবে, তখন এই উম্মত ভূমিকম্প ও বিকৃতির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হবে। এছাড়া বুখারী শরীফের ‘কিতাবুল ফিতান’ অধ্যায়ে উল্লেখ রয়েছে, বেশি বেশি ভূমিকম্প না হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবে না।

আলেমদের ব্যাখ্যা ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.)-এর মতে, বর্তমান বিশ্বে বিভিন্ন দেশে ভূমিকম্পের ক্রমবর্ধমান হার কিয়ামতের আলামত হিসেবে প্রকাশিতব্য ভূমিকম্পের প্রাথমিক পর্যায় হতে পারে।

মুসলমানদের করণীয় ভূমিকম্প বা যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ কেবল একটি প্রাকৃতিক ঘটনা নয়, বরং তা আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য সতর্কবার্তা হতে পারে। এ ধরনের দুর্যোগের সময় মুমিনদের উচিত:

  • অধিক পরিমাণে তওবা ও ইস্তিগফার করা।

  • আল্লাহর দিকে ফিরে আসা।

  • অন্যায়ের প্রতিবাদ করা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা।