প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন ও মালয়েশিয়া সফর শেষে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে দুই দেশের সঙ্গে একযোগে কাজ করার ক্ষেত্রে ঐকমত্য অর্জিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে সফর শেষে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
মাহদী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও রাজার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা এবং চীনের ডালিয়ানে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম’-এ অংশগ্রহণ ও বেইজিংয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট ও প্রিমিয়ারের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। আলোচনায় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্যের প্রসার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কালচার ও মিডিয়া কানেক্টিভিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে।
মুখপাত্র জানান, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বর্তমান সরকারের সঙ্গে কাজ করার প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং বাংলাদেশকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যদিকে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের বিষয়ে মাহদী আমিন বলেন, “তাদের অভ্যন্তরীণ নীতিমালা অনুসরণ করে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার ক্ষেত্রে ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ বা অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।”
সফরে চীন ও মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক ও অনবদ্য ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। বর্তমান সরকারের সঙ্গে এই দুই দেশের সম্পর্ককে ‘লং-টার্ম স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ বা দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে কৌশলগত ঐকমত্য হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া লাল গালিচা সংবর্ধনাকে বাংলাদেশের জন্য গৌরবের উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী বিমানবন্দরে কোনো দলীয় নেতাকর্মী বা র্যালি করা হয়নি। এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগটি নতুন ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ।”
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দেশে ফিরেছেন। বিমানবন্দরে সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!