টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়ে শালবন রক্ষা, বনবাসী গারো, কোচ ও বর্মন সম্প্রদায়ের ভূমি সমস্যা সমাধান এবং তাদের সাংবিধানিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে ‘বেনিফিসিয়ারীজ ফিডব্যাক মিটিং’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর আয়োজনে শনিবার (২৭ জুন) জলছত্র শান্তি নিকেতন হলরুমে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক-এর সভাপতিত্বে সভায় বনের পরিবেশ রক্ষা, আদিবাসীদের ওপর দায়েরকৃত বন মামলা নিষ্পত্তি, সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন ও সংস্কৃতি রক্ষায় বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় বক্তারা মধুপুরে বসবাসরত গারো, কোচ ও বর্মন সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। তাদের দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—বনের সীমানা সুনির্দিষ্টকরণ, আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন, অমীমাংসিত বন মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা এবং কালচারাল একাডেমি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ করা।
সভায় বক্তারা বলেন, মধুপুরের আদিবাসীদের ভূমির মালিকানা ও অধিকারের বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি। তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করে একটি টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে রাষ্ট্রকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সভায় বক্তব্য রাখেন জলছত্র ধর্মপল্লীর পুরোহিত সুভাষ কস্তা (সিএসসি), জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জনযেত্রা, বেলার বিভাগীয় প্রোগ্রাম অফিসার গৌতম চন্দ্র চন্দ, পীরগাছা থাংয়ানি কো-পারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিহির মার্টিন মৃ, টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটি অব নর্থ টাঙ্গাইলের সভাপতি হাবিবুর রহমান এবং কোচ আদিবাসী সংগঠনের সভাপতি গৌরাঙ্গ বর্মন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের গারো, কোচ ও বর্মন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!