ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি সুপরিকল্পিত অপপ্রচার ও প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে। গত ২২ জুন আশুলিয়ার তুরাগ নদীতে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মীদের পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার একটি দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মূল ঘটনা আড়াল করে "Ajker Kantho - আজকের কণ্ঠ" নামক একটি ফেসবুক পেজ থেকে সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীরের ছবি ব্যবহার করে মনগড়া ‘ফটোকার্ড’ তৈরি করা হয়েছে এবং ঘটনাটিকে "তুরাগ ট্র্যাজেডি" নাম দিয়ে এর দায় বিএনপির ওপর চাপানোর অপচেষ্টা চলছে।

এই ঘটনার পর গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর সহযোগী অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীরা এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২২ জুন বেলা আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে তুরাগ থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিকের নেতৃত্বে ২৫-৩০ জন নেতাকর্মী একটি নৌকায় করে আশুলিয়ার রুস্তমপুর ঘাট থেকে আশুলিয়া বাজার ঘাটের দিকে রওনা হয়।

তারা ঘাটে পৌঁছালে সেখানে দায়িত্বরত আশুলিয়া থানা পুলিশ তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে ধাওয়া দেয়। এ সময় ছাত্রলীগের কর্মীরা তাড়াহুড়ো করে নৌকায় উঠে পালানোর চেষ্টা করে, কিন্তু নৌকার নোঙর তুলতে ব্যর্থ হয়। পুলিশ নৌকার নোঙর ধরে ফেললে আতঙ্কিত হয়ে বেশ কয়েকজন কর্মী তুরাগ নদীতে ঝাঁপ দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৭ জনকে আটক করতে সক্ষম হয়, যারা ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক এমপি হাবিব হাসানের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে পরিচিত।

নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় সাঁতার না জানা ২ জন কর্মী পানিতে তলিয়ে যান। পরদিন ২৩ জুন নদী থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন— সুমন (তুরাগ, ঢাকা) এবং মো. আরিফুল ইসলাম (কাউনিয়া, রংপুর)।

ঘটনার পর বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও কিছু সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয় যে ৭ জন নিখোঁজ এবং ৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পুলিশ মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানিয়েছে, ২ জনের বাইরে অতিরিক্ত কোনো মরদেহ উদ্ধার বা নিখোঁজ হওয়ার নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। একটি স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল ও জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে এই অতিরঞ্জিত তথ্য ছড়াচ্ছে।

স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, ঢাকা-১৮ আসনের বর্তমান এমপি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে ফ্যাসিবাদের দোসররা এই ষড়যন্ত্রমূলক প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে। বিভিন্ন সোর্সের তথ্য অনুযায়ী, "আজকের কণ্ঠ" পেজটি মূলত আওয়ামী লীগের একটি প্রোপাগান্ডা ও গুজব ছড়ানোর মাধ্যম।

নেতাকর্মীরা বলেন, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন একজন ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক। মূল ঘটনা আড়াল করে তাঁর বিরুদ্ধে এমন নোংরা মিথ্যাচার কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ করতে পারে না।

এ বিষয়ে জুলাই আন্দোলনের কয়েকজন ভুক্তভোগী বলেন, "আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু যারা আমাদের ভাই-বোনদের পাখির মতো গুলি করে মেরেছে, সেই সন্ত্রাসী ও নিষিদ্ধ বাহিনীর বিরুদ্ধে আমরা সবসময় ঐক্যবদ্ধ আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো। তাদের কোনো গুজব সফল হতে দেওয়া হবে না।"

আশুলিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে আটককৃত ৭ জনের বিরুদ্ধে ইতিপূরণেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।