দেশজুড়ে আলোচিত ঢাকার পল্লবীর শিশু রামিসা আক্তার (৮) ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সোহেল রানার পরিবার আদালতের রায় মেনে নিয়েছে। রায় ঘোষণার আগে সকালে কারাগার থেকে বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলে নিজের অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চান আসামি সোহেল রানা।
আজ রবিবার (৭ জুন) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে রায় ঘোষণার পর নাটোরের সিংড়া উপজেলার মহেশচন্দ্রপুর গ্রামে সোহেলের পরিবারের সদস্যরা এই তথ্য জানান।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, রবিবার সকালে কারা কর্তৃপক্ষের ফোন থেকে বাবা জাকির হোসেনের সঙ্গে কথা বলেন সোহেল রানা। এ সময় তিনি নিজের অপরাধের জন্য বাবার কাছে ক্ষমা চান। পাশাপাশি দাদার বাড়িতে থাকা তার প্রথম স্ত্রীর ১০ বছর বয়সী ছেলে মিনহাজের সঙ্গেও প্রায় তিন বছর পর কথা বলেন তিনি।
দুপুরে সিংড়ার মহেশচন্দ্রপুর গ্রামে সোহেলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় স্বাভাবিক পরিবেশ। পরিবারের সদস্যরা জানান, তারা দুপুরের পর স্থানীয় লোকদের মাধ্যমে রায়ের খবর জানতে পারেন।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় সোহেলের বোন জলি বেগম বলেন,
"আমরা আগেই ধারণা করেছিলাম আমার ভাইয়ের ফাঁসি হবে। আদালত যে রায় দিয়েছেন, আমরা তা মেনে নিয়েছি। আমাদের আর্থিক সামর্থ্য থাকলে আপিল করার চেষ্টা করতাম।"
সোহেলের বাবা জাকির হোসেন বলেন, "আমরা গরিব মানুষ। উচ্চ আদালতে আপিল করার মতো টাকা-পয়সা আমাদের নেই। সরকার যদি খরচ দেয় বা রাষ্ট্রীয়ভাবে আইনজীবীর ব্যবস্থা করে দেয়, তাহলে আপিল করার কথা চিন্তা করব।"
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সোহেলের অতীত জীবন নিয়েও এলাকায় নানা বিতর্ক ছিল। পরকীয়া, চুরিসহ বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। সিংড়ায় থাকাকালীন একটি নির্মাণাধীন ব্রিজের রড চুরির মামলাও রয়েছে তার নামে। ঋণগ্রস্ত হয়ে প্রায় চার বছর আগে দ্বিতীয় স্ত্রী স্বপ্নাকে নিয়ে তিনি সিংড়া ছেড়ে ঢাকায় চলে যান।
সোহেল ও তার স্ত্রীর ফাঁসির রায়ের পর নিজ গ্রাম মহেশচন্দ্রপুরের বাসিন্দারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, এমন জঘন্য ও আলোচিত মামলার দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনের প্রতি আস্থা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
উল্লেখ্য, ঢাকার পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মূল আসামি সোহেল রানা (৩৩) ও তার সহযোগী স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৮) মৃত্যুদণ্ড দেন ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। মাত্র কয়েক কার্যদিবসের মধ্যে এই মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হওয়াকে দেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি অনন্য মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!