বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘি বা বাটার—কোনটিই হৃদযন্ত্রের জন্য পুরোপুরি "নিরাপদ" নয়, কারণ উভয়টিতেই প্রচুর পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে। পরিমিত ব্যবহারই এর মূল চাবিকাঠি।
২০২৫ সালের ‘প্রোগ্রেস ইন নিউট্রিশন’ জার্নালের গবেষণা অনুযায়ী, ঘিয়ের সঙ্গে করোনারি হৃদরোগের ঝুঁকির সামান্য সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, 'জেএএমএ ইন্টারনাল মেডিসিন'-এর ৩৩ বছরের এক বিশাল গবেষণায় দেখা গেছে, মাখনের পরিবর্তে উদ্ভিজ্জ তেল ব্যবহার করলে অকালমৃত্যুর ঝুঁকি কমতে পারে।
ঘি এবং বাটার—উভয়ই শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই হৃদরোগে আক্রান্ত বা উচ্চ কোলেস্টেরলের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য এগুলো সীমিত রাখা জরুরি।
হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে করণীয়:
১. তেলের বিকল্প: দৈনন্দিন রান্নার জন্য ঘি বা বাটারের বদলে অলিভ অয়েল, সরিষার তেল বা বাদাম তেলের মতো হৃদযন্ত্রবান্ধব তেল বেছে নেওয়া উত্তম। ২. সামগ্রিক জীবনধারা: শুধু ঘি বা বাটার বর্জন করলেই হৃদযন্ত্র সুস্থ থাকে না। সুস্থ হার্টের জন্য নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান বর্জন এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সমানভাবে জরুরি। ৩. পরিমিত ব্যবহার: আপনি যদি স্বাদ বা রান্নার প্রয়োজনে এগুলো ব্যবহার করেন, তবে তা যেন অবশ্যই পরিমিত পরিমাণে হয়।
সারসংক্ষেপ: হৃদযন্ত্রের সুরক্ষার জন্য ঘি বা বাটারের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল না হয়ে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর উদ্ভিজ্জ তেল ব্যবহারের দিকে মনোযোগ দেওয়া বেশি কার্যকর। আপনার যদি হৃদরোগের কোনো ঝুঁকি থাকে, তবে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস নির্ধারণ করুন।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!