টানা দুইদিনের ভারী বর্ষণেও চট্টগ্রামের চিরচেনা জলাবদ্ধতার ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেয়েছেন নগরবাসী। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নজরদারি এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) নিবিড় মনিটরিংয়ের ফলেই এমন ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
সোমবার (৬ জুলাই) সকালে নগরীর বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে মেয়র সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে নিরসনের বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রামের সবগুলো সেবা সংস্থাকে সমন্বয় করে একটি শক্তিশালী কমিটিও গঠন করে দিয়েছেন তিনি।'
জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রাম গড়ে তোলা বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার উল্লেখ করে মেয়র বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি মনিটরিং ও দিকনির্দেশনায় আমরা কাজ করছি। নগরীর খাল, নালা ও ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা দ্রুত অপসারণের ফলেই টানা দুই দিনের বৃষ্টিতেও শহরে বড় ধরনের জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি।'
সোমবার সকাল থেকে মেয়র নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন পরিস্থিতি, খাল-নালাগুলোর প্রবাহ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর অবস্থা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন। দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের অগ্রগতি যাচাই করে তিনি তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। এছাড়া চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিনকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান ও তদারকি আরও জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন মেয়র।
বর্ষা মৌসুমের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় চসিকের সব বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে জানিয়ে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, 'কোথাও পানি জমার খবর পাওয়া মাত্রই আমাদের টিম দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে। নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছি।'
এ সময় নগরবাসীর প্রতি সচেতনতার আহ্বান জানিয়ে মেয়র আরও বলেন, 'নালা-নর্দমা বা খালে ময়লা-আবর্জনা ও প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। নাগরিক সচেতনতা ছাড়া পরিচ্ছন্ন নগরী গড়া সম্ভব নয়। পানি প্রবাহ সচল রাখতে নাগরিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।'
বর্ষা মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে বিশেষ তদারকি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন মেয়র। অতীতে জলাবদ্ধতার প্রবণতা ছিল—এমন এলাকাগুলোতে বাড়তি নজরদারি বজায় রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিদর্শনকালে মেয়রের সঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা, প্রধান প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!