তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য যেকোনো চুক্তি মেনে নেওয়া ছাড়া ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সামনে আর কোনো বিকল্প নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যের তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় নিজের এই অবস্থান ব্যক্ত করেন।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রভাবশালী গণমাধ্যম 'ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস'-কে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, "তার (নেতানিয়াহু) সামনে কোনো উপায় থাকবে না। এই পরিস্থিতির মূল সিদ্ধান্ত বা চূড়ান্ত নির্দেশ কেবল আমিই দিচ্ছি। এখানে নেতানিয়াহুর কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই।"

গত এপ্রিল মাসের শুরুতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে রোববার (৮ জুন) গভীর রাতে ইরান থেকে ইসরায়েলের ওপর একঝাঁক ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। বৈরুতের উপকণ্ঠে ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান এই পাল্টা হামলা চালায়। মধ্যপ্রাচ্যের এই চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে ইসরায়েলি নেতৃত্বের প্রতি এমন কড়া বার্তা এলো।

এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'ফক্স নিউজ' ও 'অ্যাক্সিওস'-কে দেওয়া পৃথক বিবৃতিতে ট্রাম্প জানান, তিনি ইতিমধ্যে নেতানিয়াহুর সঙ্গে প্রায় আধঘণ্টা টেলিফোনে কথা বলেছেন এবং ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো প্রতিশোধমূলক সামরিক পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, "ইসরায়েল তার হামলা চালিয়েছে, ইরানও তার হামলা সম্পন্ন করেছে। আমাদের আর নতুন কোনো হামলার প্রয়োজন নেই।" তবে ট্রাম্পের এই অবস্থান ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সাম্প্রতিক যুদ্ধংদেহী বিবৃতির সম্পূর্ণ বিপরীত।

ইসরায়েলের ওপর ইরানের এই সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে তেহরানের সঙ্গে চলমান মার্কিন কূটনৈতিক আলোচনা বা চুক্তি প্রক্রিয়ায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, "এই হামলার শেষ পরিণতি কী হয় তা দেখার বিষয়, তবে এগুলো চুক্তির ওপর বড় কোনো প্রভাব ফেলবে না।"

মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, "হিসাবের ওপর ভিত্তি করে বলা যায়, এই দ্বন্দ্ব ৪৭ বছর কিংবা ৩ হাজার বছর ধরে একইভাবে চলে আসছে। আপনি যেভাবে হিসাব করেন না কেন।"

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, ওয়াশিংটন এই মুহূর্তে ইরানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত চুক্তির খুব কাছাকাছি রয়েছে। তবে কূটনীতি ব্যর্থ হলে বিকল্প ব্যবস্থার কথাও জানান তিনি। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, চুক্তি না হলে ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ আরও জোরদার করা হবে, যা যেকোনো সামরিক হামলার চেয়েও শক্তিশালী।

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি বজায় রাখার স্বার্থে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে যখন ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ এবং যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে, ঠিক তখনই মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন কঠোর মন্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস, ফক্স নিউজ ও রয়টার্স।