আত্মবিশ্বাস এমন কোনো বিষয় নয় যা রাতারাতি তৈরি হয়, কিংবা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আপনাআপনি গড়ে ওঠে। বরং বেড়ে ওঠার দিনগুলোতে দৈনন্দিন জীবনের নানা ছোটখাটো অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই শিশুর মনে এই গুণটি ডালপালা মেলে। প্রত্যেক বাবা-মা-ই চান তাদের সন্তান যেন আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠুক। আর এর জন্য খুব বড় কোনো পদক্ষেপের প্রয়োজন নেই; দৈনন্দিন জীবনের কিছু সূক্ষ্ম ও সাধারণ প্রচেষ্টাই পারে সন্তানের আত্মবিশ্বাস অনেকটা বাড়িয়ে দিতে।

জেনে নেওয়া যাক এমন ৫টি সহজ ও কার্যকর উপায়, যা শিশুকে স্বাবলম্বী ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে সাহায্য করবে:

১. রেস্তোরাঁয় নিজের খাবার নিজেই অর্ডার করতে দিন

সপরিবারে রেস্তোরাঁয় খেতে যাওয়াটা শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর দারুণ একটি সুযোগ হতে পারে। টেবিলে বসে সন্তানের হয়ে আপনি অর্ডার না দিয়ে, তাকেই ওয়েটারের সঙ্গে কথা বলতে দিন। সে কী খেতে চায়, তা নিজেই যেন বুঝিয়ে বলে। এই ছোট আলাপচারিতা শিশুদের যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ায় এবং নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে শেখায়। শুরুতে হয়তো তারা কিছুটা লজ্জা পেতে পারে, তবে নিয়মিত এই অনুশীলন সামাজিক পরিস্থিতিতে তাদের স্বচ্ছন্দ করে তুলবে।

২. ভ্রমণের সময় সন্তানের দিকনির্দেশনা নিন

গাড়ি চালানো বা কোথাও ভ্রমণের সময় একটি সহজ কৌশল শিশুর সমস্যা সমাধান ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়িয়ে দিতে পারে। পথ চলার সময় শিশুদের পরিচিত কোনো স্থান বা ল্যান্ডমার্ক চিহ্নিত করতে বলুন। তারা ঠিক পথে যাচ্ছে কি না, সেদিকে খেয়াল রাখতে বলুন। এমনকি দিকনির্দেশনা ও ম্যাপ চেনার সুবিধার্থে তাদের হাতে জিপিএস ট্র্যাকার বা স্মার্টফোনের ম্যাপও তুলে দিতে পারেন। এতে তারা নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ মনে করতে শুরু করবে।

৩. দৈনন্দিন দায়িত্বে দিন ‘মজার পরিচয়’

শিশুরা সাধারণত বড়দের মতো কাজ করতে এবং দায়িত্ব নিতে বেশ পছন্দ করে। ঘরের ছোটখাটো কাজে তাদের যুক্ত করতে শুধু আদেশ না দিয়ে, কাজের সঙ্গে একটি মজার পদবী বা পরিচয় জুড়ে দিন। যেমন—সন্তানকে গাছে পানি দেওয়ার দায়িত্ব দিলে তাকে বলতে পারেন, ‘আজ থেকে তুমি আমাদের গাছের তত্ত্বাবধায়ক’। এই ছোট কৌশলটি শিশুদের নিজেদের সামর্থ্য সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে এবং তাদের মধ্যে গভীর দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলে।

৪. নিজের জিনিসপত্র নিজেকেই গোছাতে দিন

কোনো ট্যুর বা কোথাও বেড়াতে যাওয়ার আগে সন্তানদের নিজেদের ব্যাগ নিজেদেরই গোছাতে বলুন। এই সময়ে তাদের পছন্দের পোশাক বা খেলনা বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা দিন। কোন জিনিসটি আগে এবং কোনটি পরে গোছাতে হবে—এই সহজ অভ্যাসটি শিশুকে গোছানোর নিয়ম এবং স্বাবলম্বী হতে শেখায়। নিজের জিনিসের প্রতি তাদের যত্নশীলতাও বাড়ে।

৫. নিজে থেকে পরিচয় দেওয়ার অভ্যাস

নতুন কারও সঙ্গে দেখা হলে সন্তানকে লুকিয়ে না রেখে, নিজে থেকে পরিচয় দিতে উৎসাহিত করুন। প্রতিবেশী, নতুন শিক্ষক কিংবা পারিবারিক কোনো বন্ধুর সঙ্গে দেখা হলে শিশুকে তার নিজের নাম বলতে, অভিবাদন (সালাম বা নমস্কার) জানাতে এবং নিজের সম্পর্কে দু-একটি কথা বলতে উদ্বুদ্ধ করুন। এই ছোট ছোট সামাজিক দক্ষতাগুলো ধীরে ধীরে শিশুদের ভেতরে থাকা জড়তা কাটিয়ে দূরদর্শী ও স্বাধীনচেতা হতে সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞদের মত: শিশুরা মূলত বাবা-মাকে দেখেই শেখে। তাই তাদের ওপর সব সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দিয়ে ছোটবেলা থেকেই ছোট ছোট বিষয়ে মতামত প্রকাশের সুযোগ দিলে তারা ভবিষ্যতে যেকোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার সাহস পাবে।