লোহিত সাগরে ইসরায়েলি নৌ-যোগাযোগের ওপর পূর্ণাঙ্গ ও সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি। আজ সোমবার (৮ জুন) এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি জানায়, এই জলসীমায় ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পৃক্ত যেকোনো জাহাজকে তারা পুনরায় লক্ষ্যবস্তু করবে।

একই বিবৃতিতে হুথিরা দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের জাফা (তেল আবিব) অঞ্চলের বেশ কিছু সংবেদনশীল সামরিক ও কৌশলগত স্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, এই হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলাগুলো অত্যন্ত নিখুঁতভাবে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।

হুথিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরান, ফিলিস্তিন, লেবানন, ইরাক এবং ইয়েমেনে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি আগ্রাসনের সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবেই তারা এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। বিবৃতিতে তারা হুশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যেকোনো উসকানি বা আগ্রাসনের জবাবে তারাও পাল্টা কঠোর পদক্ষেপ নেবে। যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের ‘অক্ষশক্তি’র (অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স) সঙ্গে সমন্বয় রেখে তাদের সামরিক অভিযান আরও তীব্র করা হবে। ফিলিস্তিন, গাজা, ইরান, লেবানন ও ইরাকের জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া অন্যায় সামরিক অবরোধের মুখে তারা চুপ করে বসে থাকবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।

এদিকে ইসরায়েলের গণমাধ্যম ‘চ্যানেল ১২’ নিশ্চিত করেছে, ইয়েমেন থেকে ছোঁড়া একটি দূরপাল্লার ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করার পর সোমবার দিনের শুরুতে ইসরায়েল সাময়িকভাবে তাদের বেন গুরিওন বিমানবন্দরসহ আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই এই ঘটনাটি ঘটল।

এর আগে, লেবাননের বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলীতে ইসরায়েলি বিমান হামলার জবাবে রবিবার গভীর রাতে ইরান থেকে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। পরবর্তীতে ইসরায়েলও পশ্চিম ও মধ্য ইরানে পাল্টা বিমান হামলা চালায়, যার ফলে তেহরান, ইসফাহান ও তাবরিজসহ ইরানের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে বিকট বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। ইয়েমেনের হুথিদের এই সর্বশেষ পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের এই বহুমাত্রিক যুদ্ধকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলল বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি ও আল-জাজিরা।