ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে যাত্রীবাহী একটি লোকাল বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে গভীর খাদে উল্টে পড়ে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত আরও ১০ জন যাত্রী। আজ সোমবার (৮ জুন) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের বৈশ্বামোড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শাহবাজপুর ইউনিয়নের আরস আলী (৭০), তাঁর ১০ বছর বয়সী নাতি আলিফ, হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মৌসুমী দাস (৩০) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামের চয়ন মজুমদার (২৩)।

হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুরে হবিগঞ্জের মাধবপুর বাস স্ট্যান্ড থেকে যাত্রী নিয়ে ‘দিগন্ত পরিবহন’-এর একটি লোকাল বাস ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের মেড্ডা বাস স্ট্যান্ডের উদ্দেশ্যে আসছিল। পথিমধ্যে বৈশ্বামোড়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী ট্রাক বাসটিকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ট্রাকের ধাক্কা এড়াতে গিয়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং মুহূর্তেই যাত্রীবাহী বাসটি সড়ক থেকে ছিটকে পাশের গভীর খাদে উল্টে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই বাসের চার যাত্রী নিহত হন এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। উদ্ধারকর্মীরা হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণের ব্যবস্থা করেন।

খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক চাপ দেওয়ায় দিগন্ত পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই চারজন মারা গেছেন। দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে।"

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক নাজমুল সরকার জানান, "হাসপাতালে এখনো কোনো মরদেহ আসেনি। তবে দুর্ঘটনার শিকার ৬ জন আহত ব্যক্তিকে এখানে আনা হয়েছে। আমরা তাঁদের জরুরি চিকিৎসা দিয়েছি। বর্তমানে চিকিৎসাধীন সবার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত রয়েছে।"