ইয়েমেনের রাজধানী সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি জোটের হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। সোমবার (১৩ জুলাই) এই হামলার ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সূত্রপাত জানা গেছে, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শোক অনুষ্ঠান শেষে তেহরান থেকে সানা ফিরছিল হুথি বিদ্রোহীদের একটি প্রতিনিধি দল। এ সময় সানা বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হলে বিমানবন্দরের রানওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং প্রতিনিধি দলবাহী উড়োজাহাজটি হোদেইদা বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়। ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলে ক্ষমতাসীন সৌদিপন্থি সরকার সানা বিমানবন্দরে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।
হুথিদের পাল্টা হামলা সানা বিমানবন্দরে হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সৌদির আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পাল্টা হামলা চালায় বিদ্রোহীরা। হুথি বিদ্রোহীদের মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক ভিডিওবার্তায় জানান, সৌদি জোটের "অপরাধমূলক আগ্রাসনের" জবাব দিতেই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহার করে এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
সৌদি জোটের মুখপাত্র তুরকি আল-মালিকি হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হুথিদের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) ব্যবহার করে ধ্বংস করা হয়েছে।
দীর্ঘদিনের সংঘাত ও বর্তমান পরিস্থিতি উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে হুথিরা সানা দখল করার পর থেকে ইয়েমেনে সৌদি কোয়ালিশন বাহিনী সামরিক অভিযান শুরু করে। বর্তমানে ইয়েমেন কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত—উত্তরাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে হুথি বিদ্রোহীরা এবং অন্য অংশটি সৌদিপন্থি সরকার পরিচালনা করছে।
২০২২ সালে সৌদি এবং হুথিদের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির চার বছর পর এই হামলার মাধ্যমে তা সরাসরি লঙ্ঘিত হলো। তবে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশেদ আল আলিমি জানিয়েছেন, তিনি এই হামলার মাধ্যমে সৌদি আরবের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়াতে আগ্রহী নন।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!