ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার বর্তমান নকশা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়ে বিক্ষোভে নেমেছেন মেঘালয়ের একটি সীমান্তবর্তী গ্রামের বাসিন্দারা। মেঘালয়ের পূর্ব খাসি পাহাড় জেলার পিনুরসলা উপ-বিভাগের লিংখং গ্রামের বাসিন্দাদের আশঙ্কা, এই নকশা অনুযায়ী বেড়া দেওয়া হলে তারা ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ও অবরুদ্ধ হয়ে পড়বেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গ্রামবাসীরা অবিলম্বে চলমান নির্মাণকাজ বন্ধের দাবি জানিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, দুই দেশের শূন্য রেখা বা 'জিরো লাইন' থেকে অন্তত ১৫০ গজ ভেতরে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করতে হয়। তবে লিংখং গ্রামটির ভৌগোলিক অবস্থান একদম জিরো লাইনের ওপর এবং এখানকার বাড়িঘরগুলো বাংলাদেশের সীমানা থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরত্বে অবস্থিত।

গ্রামবাসীদের দাবি, বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী বেড়া দেওয়া হলে তাদের পুরো গ্রামটিই ভারতের নিরাপত্তা বলয়ের বাইরে (নো ম্যানস ল্যান্ড বা বাংলাদেশের দিকে) পড়ে যাবে। এতে তাদের নিরাপত্তা ও যাতায়াত ব্যবস্থা চরম ঝুঁকিতে পড়বে। এর আগে কোভিড-১৯ মহামারির সময় গ্রামবাসীরা নিজেদের উদ্যোগে একটি বাঁশের বেড়া দিয়ে এলাকাটি সাময়িকভাবে আলাদা করে রেখেছিলেন, যা এখনো প্রায় একই অবস্থায় রয়েছে।

"আমরা সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার বিরোধী নই। তবে আমরা চাই এই বেড়া যেন একদম জিরো লাইনে নির্মাণ করা হয়, যাতে আমাদের গ্রামটি ভারতের ভেতরে এবং নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে সুরক্ষিত থাকে। অন্যথায় আমাদের ভবিষ্যৎ ও অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।" — রামু, লিংখং গ্রামের প্রধান (বার্তা সংস্থা পিটিআই-কে প্রদত্ত)

স্থানীয় বাসিন্দা রিমা খংসদির এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাজ্য সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে কথা বলার অনুরোধ জানিয়েছেন।

সীমান্ত সুরক্ষার অংশ হিসেবে এই বেড়া নির্মাণের কাজ চললেও স্থানীয় জটিলতা ও দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণে মেঘালয়ের ৪৪৪ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকার মধ্যে এখনো প্রায় ৮০ কিলোমিটার অংশ অরক্ষিত রয়ে গেছে।

এদিকে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)-এর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লিংখং গ্রামের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে ইতোমধ্যে একটি আউটপোস্ট বা ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়েছে এবং বিএসএফ জওয়ানরা স্থানীয়দের সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে মেঘালয়ের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যেসব এলাকায় জনবসতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে জিরো লাইনেই একক সারির (সিঙ্গেল-রো) কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে।

এই প্রস্তাব নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শুরু হলেও, বাংলাদেশের নতুন সরকারের কাছ থেকে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।

সূত্র: দ্য হিন্দু।