বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আমন্ত্রণে আয়োজিত যুগপৎ আন্দোলনের মিত্র রাজনৈতিক দল ও জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠেয় নৈশভোজে অংশ নিচ্ছে না জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই বৈঠক ও নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সরকার গঠনের পর মিত্রদের সঙ্গে এটিই তারেক রহমানের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।
দলটির পক্ষ থেকে বৈঠকে না যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী। সোমবার দুপুরে তিনি জানান, শরিক দল হিসেবে তারা প্রধানমন্ত্রীর দাওয়াত পেয়েছেন, তবে দলীয় ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে তারা এই বৈঠকে থাকছেন না। যদিও কী বিশেষ কারণে এই বর্জন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
বিএনপি সূত্র বলছে, এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো যুগপৎ আন্দোলনে থাকা মিত্রদের সঙ্গে হৃদ্যতা বৃদ্ধি করা এবং আগামীর কর্মপন্থা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা। সব শরিক দলকেই এই নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
তবে জমিয়ত নেতাদের অভিযোগ, নির্বাচনের পর থেকেই বিএনপি তাদের আগের মতো মূল্যায়ন বা গুরুত্ব দিচ্ছে না। সম্প্রতি দলের সভাপতি মাওলানা উবায়েদুল্লাহ ফারুক প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, নির্বাচনের পর থেকে বিএনপির পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখা হয়নি, এমনকি কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠকও হয়নি। জোটের অন্যান্য শরিকদের গুরুত্ব দেওয়া হলেও জমিয়তকে ধারাবাহিকভাবে উপেক্ষা করা হচ্ছে বলে দাবি তাদের।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমিয়তকে চারটি আসন ছেড়ে দিয়েছিল বিএনপি। আসনগুলো হলো— নীলফামারী-১ (মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী), নারায়ণগঞ্জ-৪ (মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী), সিলেট-৫ (মাওলানা উবায়েদুল্লাহ ফারুক) ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব)। বিএনপির পূর্ণ সমর্থন থাকা সত্ত্বেও দলটির কোনো প্রার্থীই নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারেননি।
নির্বাচনী ফলাফল ও পরবর্তী সময়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকাকে কেন্দ্র করে জোটের প্রধান দল বিএনপির সঙ্গে জমিয়তের দূরত্বের বিষয়টি এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!