চলতি বছরের আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার প্রেক্ষাপটে সারা দেশে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সম্ভাব্য রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা এড়াতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা ‘ব্লু-প্রিন্ট’-এর আওতায় দেশজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে দলটির নেতাকর্মীদের।
পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্র অনুযায়ী, গত এক মাসে সারা দেশে ৫৩ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ছয় দিনেই গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রায় ১০ হাজার জন। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় প্রতিদিন গড়ে ৫০০ জনকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। গতকাল বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) একদিনেই ৪৬৫ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায়।
সাম্প্রতিক অভিযানে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন খান জ্যোতি, পঞ্চগড়-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাঈমুজ্জামান ভূঁইয়া মুক্তা, তজুমদ্দিনের ফরিদুল তালুকদার, রায়গঞ্জের আব্দুল করিম ভোলা, কুলিয়ারচরের রেনু মিয়া এবং রাজশাহীর মাজেদুর রহমানসহ তৃণমূল ও স্থানীয় পর্যায়ের অসংখ্য নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে দুটি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন: ১. এটি আত্মগোপনে থাকা ও কোণঠাসা কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার একটি রাজনৈতিক বা মনস্তাত্ত্বিক কৌশল।
২. ভারত ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যস্থতায় এবং আইনি ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা সাপেক্ষে কোনো নতুন বন্দোবস্তের মাধ্যমে তার প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা।
বিশ্লেষক মাসুদ কামাল মনে করেন, এটিকে স্রেফ মনস্তাত্ত্বিক কৌশল ভাবার অবকাশ নেই; রাজনৈতিক পুনর্বাসনের তাগিদও এখানে কাজ করছে। অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিক সংকট কেবল ঢালাও গণগ্রেপ্তার বা পুলিশি শক্তি দিয়ে সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা না নিলে কারাগারগুলোর অতিরিক্ত বন্দি সংকটের কারণে পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, গোপন তালিকা অনুযায়ী ডিসেম্বরের আগেই আত্মগোপনে থাকা নেতাদের গ্রেপ্তারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে। একই সঙ্গে সাইবার পুলিশ ইউনিট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি বাড়িয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দীন আহমদ নিশ্চিত করেছেন, ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।