বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে মারাত্মক চাপের মুখে পড়েছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত। আমদানিনির্ভর জ্বালানির চড়া দাম, ঘন ঘন লোডশেডিং এবং গ্যাস সংকটের ফলে কারখানাগুলো বাড়তি খরচে ডিজেলচালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে।
দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের সবচেয়ে বড় উৎস এই পোশাক খাত। সরাসরি প্রায় ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হওয়া এই খাতে ২০২৫ সালে আয় হয়েছে ৩৮.৭ বিলিয়ন ডলার, যা মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশেরও বেশি। তবে ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে স্পট মার্কেটে এলএনজি ও জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীদের মতে, জাতীয় গ্রিডের বেহাল দশা এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতির কারণে দেশের পোশাক কারখানাগুলোর প্রতিদিনের জ্বালানি বিল রেকর্ড পরিমাণে বেড়ে গেছে। হা-মীম গ্রুপসহ বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো জেনারেটর চালিয়ে উৎপাদন সচল রাখলেও ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলো টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে। বিগত কয়েক বছরে শতাধিক ছোট কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।
এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রণোদনা দেওয়া, আমদানি শুল্ক হ্রাস এবং নতুন গ্যাস কূপ খননসহ প্রায় ১৩ হাজার মেগাওয়াট নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। তবে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির এই ঊর্ধ্বমুখী দাম এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার ফলে বর্তমান সরকারের জন্য জ্বালানি খাতই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।