রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়ী এলাকায় পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থাপনা দখলের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তদের মধ্যে জাবেদ, কামরুল মর্তুজা, এবং নজরুল দেওয়ান ওরফে নজু দেওয়ান ও তার সহযোগী হাসানের নাম উঠে এসেছে।
প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন স্থাপনা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার এই চেষ্টায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রকৃত মালিকেরা। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত জাবেদ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং মিরপুর-১২ এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলেও ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন।
ভুক্তভোগী সুরুজ মোল্লার পরিবার জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দিয়াবাড়ীর বিভিন্ন বিনোদন ও পর্যটন এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে পর্যটক এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা হতো। সম্প্রতি জাবেদ জামিনে মুক্ত হওয়ার পর আবারও পুরোনো কায়দায় বিভিন্ন স্থাপনা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
সুরুজ মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, তার পরিচালিত জনপ্রিয় ‘কাইকিং বোট লেকটি’ বর্তমানে জাবেদের অবৈধ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। লেকটি একসময় শিশু ও সাধারণ মানুষের বিনোদনের একটি অন্যতম স্থান হিসেবে পরিচিত ছিল। সুরুজ মোল্লার দাবি, তাকে ও তার পরিবারকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, গত ৫ আগস্টের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় কয়েকটি অবৈধভাবে দখল হওয়া স্থাপনা উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অস্ত্রধারী লোকজন নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হামলার মাধ্যমে পুনরায় তা দখলের চেষ্টা চলছে, যা সম্পত্তি মালিকদের চরম আতঙ্কের মধ্যে রেখেছে।
দখলদারদের কাছে সম্পত্তির মালিকানার কোনো গ্রহণযোগ্য সরকারি কাগজপত্র নেই উল্লেখ করে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দাবি করে, তাদের কাছে জমি ও স্থাপনার বৈধ সরকারি নথিপত্র রয়েছে। তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এসব নথি যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ এবং দখলের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, "আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং ন্যায়বিচার চাই। সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা আইনানুগ প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা হোক। পাশাপাশি আমাদের পরিবারগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে আমরা সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।"