জীবনযাত্রার ব্যয়নির্বাহে চড়া মূল্য, স্তব্ধ মজুরি বৃদ্ধি এবং জনকল্যাণ খাতে সরকারি ব্যয় হ্রাসের প্রস্তাবের প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে ফের ভয়াবহ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দিনভর সংঘটিত সহিংসতায় পুলিশের অন্তত ৫৩ জন সদস্য আহত হয়েছেন এবং ভাঙচুর ও সরকারি সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে ৪৪৮ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসেব অনুযায়ী বৃহস্পতিবারের বিক্ষোভে দেশজুড়ে ৬ লাখেরও বেশি মানুষ অংশ নেন। তবে দেশের বৃহত্তম ট্রেড ইউনিয়ন 'জেনারেল কনফেডারেশন অব লেবার' (সিজিটি) দাবি করেছে, ২০০টিরও বেশি স্থানে আয়োজিত এসব বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ১৬ লাখ, যার মধ্যে কেবল রাজধানী প্যারিসেই ছিলেন সাড়ে ৩ লাখ মানুষ।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত সংস্কার ও শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের শুরু করা এ আন্দোলন এখন সমাজের নানা স্তরে ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে শিক্ষা-সংস্কারের পাশাপাশি নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, ন্যূনতম মজুরি ১০ শতাংশ বৃদ্ধি এবং পেনশন সুবিধার দাবিতে রেলকর্মী, স্বাস্থ্যকর্মী ও সাধারণ পেশাজীবীরা এতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়েছেন। বিক্ষোভের কারণে দেশটির ১৮৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অন্তত ৬০টির শিক্ষাকার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

ট্রেড ইউনিয়নের মহাসচিব সোফি বিনে সরকারকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আন্দোলন অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আগামী ৯ নভেম্বর (সোমবার) প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু ট্রেড ইউনিয়ন ও নিয়োগকর্তা সংগঠনগুলোর সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসবেন বলে ফ্রান্সের সরকারি সূত্র নিশ্চিত করেছে।