ক্লাসরুমের চার দেয়াল ছাপিয়ে এবার রাজপথে নেমে এসেছেন এক শিক্ষক। পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তি আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মাইক ও প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়েছেন তিনি। রাজধানীর মিরপুরের মাজার রোডে প্রতিদিনের তীব্র যানজট এবং সীমাহীন ভাড়া নৈরাজ্যের স্থায়ী সমাধানের দাবিতে এই ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ জানান ওই শিক্ষক।

শিক্ষকের এই সাহসী পদক্ষেপ মুহূর্তেই পথচারী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের দৃষ্টি কেড়েছে।

প্রতিদিন মাজার রোড ব্যবহার করে হাজার হাজার শিক্ষার্থী, কর্মজীবী ও সাধারণ মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু রুটিন ভোগান্তিতে পরিণত হওয়া এই এলাকার যানজট জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। এর ওপর যুক্ত হয়েছে পরিবহন খাতের সীমাহীন ভাড়া নৈরাজ্য। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হলেও দেখার কেউ নেই। সাধারণ মানুষের পকেট কেটে চলা এই নৈরাজ্যের কারণে দিন দিন বাড়ছে জনদুর্ভোগ।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (DNCC) এবং সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সচেতন মহল। প্রতিবাদী শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,

"মাজার রোডের এই তীব্র যানজট এবং প্রতিদিনের ভাড়া নৈরাজ্য কি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চোখে পড়ে না? সাধারণ মানুষের পকেট কেটে যে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে, তার লাগাম টানবে কে?"

আইন ও নিয়মের সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে অবিলম্বে এই রুটিন ভোগান্তির অবসান ঘটাতে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে।

বিক্ষোভকারী শিক্ষক ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, অন্যায়কে মুখ বুজে সহ্য করাও এক ধরণের অপরাধ। নীরবতা অন্যায়ের সাহস আরও বাড়িয়ে দেয়। তাই নিজেদের অধিকার আদায়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

"ন্যায্য ভাড়ার দাবি কোনো অন্যায় দাবি নয়, এটি আমাদের অধিকার!"—এই স্লোগানকে সামনে রেখে মাজার রোডকে ভোগান্তিমুক্ত করার দাবি জোরালো হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, দায়িত্বশীল মহল এই শিক্ষকের নাড়া দেওয়া বিবেকের ডাকে সাড়া দিয়ে মাজার রোডের যাতায়াত ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে।