বর্ষাকাল মানেই চারপাশের স্নিগ্ধতা ও রোমাঞ্চকর পরিবেশ। তবে এই ঋতু একই সঙ্গে খাদ্যবাহিত রোগ এবং বিভিন্ন ঋতুজনিত সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়। আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার বারবার পরিবর্তনের ফলে এ সময় মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেম কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে সহজেই ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের আক্রমণ ঘটে।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও টাটকা খাবার খাওয়ার পাশাপাশি মৌসুমি ফল খাওয়ার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছেন পুষ্টিবিদরা। বর্ষার এই স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়াতেও সুস্থ থাকতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে এমন ৫টি ফলের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
জাম: বর্ষার অন্যতম সেরা ফল হলো জাম। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, আয়রন এবং অ্যান্থোসায়ানিন রয়েছে। জামে থাকা প্রদাহ-বিরোধী এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করার পাশাপাশি অন্ত্রের (gut) স্বাস্থ্য উন্নত করতে দারুণভাবে কাজ করে।
ডালিম: ডালিমে রয়েছে উচ্চ মাত্রার পলিফেনল এবং ভিটামিন সি। এই উপাদানগুলো শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং সুস্থ ইমিউন সিস্টেম বজায় রাখতে অত্যন্ত সহায়ক। বর্ষার দিনে খাবারের তালিকায় ডালিম যোগ করলে সহজেই সুস্থ থাকা সম্ভব।
পেঁপে: সহজলভ্য ফলের তালিকায় পেঁপে অন্যতম। ভিটামিন এ এবং সি-এর পাশাপাশি পেঁপেতে রয়েছে পাচক এনজাইম ‘প্যাপেইন’। এটি অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার একটি অপরিহার্য অংশ। নিয়মিত পেঁপে খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
নাশপাতি: সুস্বাদু ও পুষ্টিকর নাশপাতিতে উচ্চ মাত্রায় ডায়েটারি ফাইবার ও পর্যাপ্ত পানি থাকে। এর সঙ্গে থাকা ভিটামিন সি হজম প্রক্রিয়াকে মসৃণ ও উন্নত করতে সাহায্য করে। তাই বর্ষার সময়ে নাশপাতি হতে পারে একটি আদর্শ খাবার।
আপেল: “প্রতিদিন একটি আপেল খেলে ডাক্তার দূরে থাকে”—প্রবাদটি বেশ পুরোনো হলেও এর কার্যকারিতা অপরিসীম। আপেলে রয়েছে কোয়ারসেটিনের মতো কার্যকর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং পর্যাপ্ত ফাইবার। এই উপাদানগুলো অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরিতে জোরালো ভূমিকা পালন করে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বর্ষার এই মৌসুমে নিয়মিত এই ফলগুলো খাওয়ার অভ্যাস করলে নানা ধরনের সংক্রমণ থেকে দূরে থাকা এবং সুস্থ ও চনমনে থাকা সহজ হবে।